বর্ষার আগমনে বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় জীবাণুর উপদ্রব উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে এসময় ত্বকে ছত্রাক বা ফাঙ্গাল ইনফেকশনের প্রকোপ বহুগুণ বেড়ে যায়। ডা. কাকলী হালদার, সহকারী অধ্যাপক, মাইক্রোবায়োলজি বিভাগ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ জানান, বর্ষাকালে বৃষ্টিতে ভিজে শরীর দীর্ঘক্ষণ স্যাঁতসেঁতে থাকার কারণে এবং অতিরিক্ত ঘামের ফলে শরীরের ভাঁজযুক্ত অংশগুলোতে—যেমন আঙুলের ফাঁক, বগল বা কুঁচকিতে—ছত্রাক সহজেই বংশবিস্তার করে।

এই সংক্রমণের সাধারণ কিছু ধরনের মধ্যে রয়েছে অ্যাথলেটস ফুট, যা দীর্ঘক্ষণ ভেজা জুতা-মোজা পরার কারণে পায়ের আঙুলের ফাঁকে চুলকানি, লালচে ভাব ও চামড়া ওঠার মতো সমস্যা সৃষ্টি করে। আরেকটি সাধারণ সমস্যা হলো দাউদ বা রিংওয়ার্ম, যেখানে শরীরের যেকোনো স্থানে গোলাকার চাকার মতো লালচে দাগ দেখা যায় এবং তীব্র চুলকানির পাশাপাশি চারপাশটা ফুলে ওঠে। এছাড়া ছুলি বা টিনিয়া ভার্সিকলার নামক সংক্রমণে সাধারণত পিঠ, বুক বা ঘাড়ে সাদা, বাদামি বা কালচে ছোপ ছোপ দাগ দেখা যায়।

ছত্রাক সংক্রমণ থেকে দূরে থাকতে ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। বৃষ্টিতে ভিজলে দ্রুত গোসল করে শরীর ভালোভাবে তোয়ালে দিয়ে মুছে শুকিয়ে নিতে হবে। সুতি ও ঢিলেঢালা পোশাক পরা এসময় সবচেয়ে নিরাপদ বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞ। ভেজা জুতা-মোজা একেবারেই পরা যাবে না; বাইরে থেকে ফিরলে পা সাবান দিয়ে ধুয়ে ভালো করে শুকিয়ে নিতে হবে। আক্রান্ত ব্যক্তির তোয়ালে, চিরুনি বা পোশাক অন্য কেউ ব্যবহার করবেন না, কারণ ছত্রাক সহজেই ছড়িয়ে পড়ে।

পরিবেশকে ছত্রাকমুক্ত রাখতে ঘরবাড়ি শুকনা ও পরিষ্কার রাখা জরুরি। প্রতিদিন জানালা খুলে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করতে হবে, যেন আর্দ্রতা কমে। রান্নাঘর ও বাথরুমে এগজোস্ট ফ্যান ব্যবহার করা উচিত। কার্পেট ও ম্যাট শুকনা রাখতে হবে এবং এয়ার কন্ডিশনার ও ফ্যানের ফিল্টার নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। দেয়াল বা ঘরের কোণ স্যাঁতসেঁতে হলে বা ছত্রাক জমলে ব্লিচিং পাউডার দিয়ে দ্রুত পরিষ্কার করে পাইপের পানির লিক থাকলে তা দ্রুত মেরামত করতে হবে।

যদি ত্বকে ছত্রাকের সংক্রমণ দেখা দেয়, তবে আক্রান্ত স্থানটি সবসময় পরিষ্কার ও শুকনা রাখতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে অ্যান্টিফাঙ্গাল পাউডার বা সাবান ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে চুলকানি তীব্র হলে বা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়লে নিজে নিজে কোনো স্টেরয়েডযুক্ত মলম ব্যবহার না করে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যান্টিফাঙ্গাল ক্রিম বা ওষুধ গ্রহণ করা উচিত। ডা. কাকলী হালদারের মতে, বর্ষার সৌন্দর্য উপভোগ করার পাশাপাশি সামান্য সচেতনতাই আমাদের বিরক্তিকর ছত্রাকের সংক্রমণ থেকে মুক্ত রাখতে পারে।