বিশ্বকাপের আবহে জনপ্রিয় মডেল ও অভিনেত্রী সুনেরাহ বিনতে কামাল ফুটবলকে ঘিরে তাঁর ব্যক্তিগত অনুভূতি, স্মৃতি এবং প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন। আর্জেন্টিনার একনিষ্ঠ সমর্থক সুনেরাহর কাছে এই খেলা নিছক একটি প্রতিযোগিতা নয়, বরং আবেগের একটি বিশেষ স্থান। তাঁর মতে, বিশ্বকাপ এলেই চারপাশে যে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়, তা অত্যন্ত উপভোগ্য। মানুষ স্বাভাবিকভাবেই নিজেদের প্রিয় দল নিয়ে আনন্দ-উল্লাস ও আলোচনায় মাতে। কিন্তু তিনি জোর দিয়ে বলেন, "খেলার আনন্দ যেন কখনো সম্পর্কের চেয়ে বড় হয়ে না ওঠে। মতের অমিল থাকতেই পারে, তবে সেটি যেন ঝগড়া-বিবাদ বা তিক্ততার কারণ না হয়।" খেলাকে সুস্থ বিনোদন হিসেবেই গ্রহণ করাটাই সবচেয়ে সুন্দর পন্থা বলে মনে করেন এই অভিনেত্রী।

আর্জেন্টিনার প্রতি তাঁর ভালোবাসা গড়ে উঠেছে ছোটবেলা থেকেই, পারিবারিক ও আশপাশের প্রভাবে। যদিও তাঁর প্রিয় ফুটবলার পর্তুগিজ তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, তবুও তিনি মনে করেন সুন্দর ফুটবলের কোনো নির্দিষ্ট দল নেই এবং যে দলই ভালো খেলুক, তাদের পারদর্শিতা উপভোগ করেন তিনি। পেশাগত ব্যস্ততার দরুন সব খেলা দেখা সম্ভব না হলেও গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলো দেখার আপ্রাণ চেষ্টা করেন সুনেরাহ।

ছোটবেলার ফুটবল-স্মৃতি রোমন্থন করে তিনি জানান, স্কুল জীবনে বন্ধুদের সঙ্গে মাঠে দৌড়ঝাঁপের দিনগুলো আজও স্পষ্ট। তবে একবার খেলতে নেমে কোমরে গুরুতর আঘাত পাওয়ার পর ধীরে ধীরে মাঠ থেকে দূরে সরে আসেন। বর্তমানে ফুটবল না খেললেও এর প্রতি ভালোবাসায় বিন্দুমাত্র ভাটা পড়েনি। এক সময় ভলিবল, ব্যাডমিন্টন ও টেনিসেও সমান উৎসাহ ছিল তাঁর। এখন নিয়মিত খেলাধুলার বদলে সময় পেলেই সাঁতার ও জিমে শরীরচর্চা করে ফিটনেস ধরে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস, সুস্থ শরীর কেবল শিল্পীদের জন্যই নয়, সবার জন্যই সমান গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশের ফুটবল প্রসঙ্গে সুনেরাহ গভীর আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তাঁর ভাষ্যে, দেশের মানুষের ফুটবল-প্রীতি ও আবেগের কোনো অভাব নেই— গ্যালারি, টেলিভিশনের পর্দা থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বহিঃপ্রকাশ ঘটে। এখন দরকার সেই তীব্র আবেগকে মাঠের সাফল্যে রূপান্তরিত করার উদ্যোগ। তিনি মনে করেন, যথাযথ পরিকল্পনা, আধুনিক প্রশিক্ষণ, তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভা অন্বেষণ এবং খেলোয়াড়দের উন্নত সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা গেলে বাংলাদেশের ফুটবল বহুদূর অগ্রসর হবে। তিনি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ফুটবলকে আরও মজবুত অবস্থানে দেখতে চান এবং প্রত্যাশা করেন একদিন বাংলাদেশ দল নিয়মিতভাবে বড় বড় আন্তর্জাতিক আসরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে গর্বের কারণ হয়ে উঠবে।