চট্টগ্রামে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪১২ দশমিক ৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা ১৯৮৩ সালের পর এক দিনের সর্বোচ্চ বৃষ্টি। এই টানা বর্ষণের ফলে নগরের বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে রহমাননগর এলাকায় একটি প্রাণঘাতী ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার বেলা দুইটার দিকে পাঁচলাইশ থানাধীন রহমাননগর বি ব্লকের ৪ নম্বর সড়কের একটি পাহাড়ঘেঁষা সেমিপাকা ঘরে দুপুরের খাবার খাচ্ছিলেন সফিকুল ইসলাম (৩২) নামে এক ব্যক্তি। হঠাৎ করেই ভারী বৃষ্টিতে পাহাড়ের একটি অংশ ধসে পড়ে ওই ঘরের দেয়ালের ওপর। প্রচণ্ড চাপে দেয়ালটি ভেঙে পড়লে সফিকুল তার নিচে চাপা পড়েন। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
এ সময় দেয়ালধসে সফিকুলের দেড় বছর বয়সী মেয়ে সাইফা ও তার শাশুড়ি মর্জিনা বেগম (৫৫) আহত হন। তাদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তারা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পাঁচলাইশ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শফিউল আজম জানান, পাহাড় থেকে মাটি ধসে দেয়ালের ওপর পড়লে তা ভেঙে সফিকুলের শরীরের ওপর আছড়ে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে বিকেল সাড়ে চারটার দিকে মরদেহ উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালের মর্গে পাঠান।
স্থানীয় বাসিন্দা আনিকা আক্তার জানান, সফিকুল তার স্ত্রী, মেয়ে ও শাশুড়ি নিয়ে পাশাপাশি ঘরে বসবাস করতেন। দুর্ঘটনার পর তার শাশুড়ি ও মেয়েকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
চট্টগ্রামে গত ২৪ ঘণ্টার এই রেকর্ড বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড়ধসের শঙ্কা আরও বেড়ে গেছে। জেলা প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় ও উপকূলসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে মাইকিং করছে। নগরের সব আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে পাহাড়সংলগ্ন স্কুল, কলেজ, মসজিদ ও মাদ্রাসাকেও অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে পাহাড়গুলোতে অবৈধ বসতি থাকায় পাহাড়ধসের শঙ্কা পুরোপুরি কাটছে না।
চলমান বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ধসের ঝুঁকির মধ্যে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। প্রশাসন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। চট্টগ্রামে মৌসুমের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতে বিভিন্ন সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।




