আজ শনিবার দুপুরে টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কালিদাস গ্রামের কলতান বিদ্যানিকেতনে এক বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে টাঙ্গাইল–৮ (সখীপুর–বাসাইল) আসনের সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান উপস্থিত থেকে নাঈম সিকদারের দাদা আবদুস সাত্তার সিকদারের হাতে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে প্রদত্ত দুই লাখ টাকা তুলে দেন। এই অর্থ ক্যানসারে আক্রান্ত নাঈমের মা লাইলি বেগমের চিকিৎসার জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন সখীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আশরাফুল আলম। প্রধান অতিথির বক্তব্য ছাড়াও সেখানে উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নাজিম উদ্দিন, সাবেক সভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা খোরশেদ আলম, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সবুর রেজা এবং কলতান বিদ্যানিকেতনের পরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম বক্তব্য দেন। তাদের উপস্থিতিতে এই সহযোগিতা হস্তান্তরের মাধ্যমে নাঈমের পরিবারের প্রতি সরকারের সহানুভূতির বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়।

এই সহযোগিতার পেছনে রয়েছে শিক্ষার্থীদের এক ব্যতিক্রমী মানবিক উদ্যোগ। ষোলো বছর বয়সী নাঈম সিকদার সম্প্রতি এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। তবে ফল প্রকাশের কয়েক দিন আগে তার মা লাইলি বেগম (৪৫)-এর শরীরে ক্যানসার শনাক্ত হয়। বর্তমানে তিনি সিরাজগঞ্জের খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। পরিবারটির একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্য, নাঈমের বাবা আবদুল সিকদার, ধারদেনার বোঝা নিয়ে কাতারে গিয়েছেন। সেখানে এখনও তিনি কোনো কাজ পাননি। মায়ের গুরুতর অসুস্থতার সঙ্গে বাবার অনুপস্থিতি ও আয়ের অভাবে পরিবারটি গভীর সংকটে পড়ে।

এই দুরবস্থার কথা জানতে পেরে নাঈমের সহপাঠীরা পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর পাসের আনন্দে মিষ্টিমুখ করার কথা ছিল তাদের। কিন্তু সেই আনন্দের টাকা খরচ না করে বন্ধুর মায়ের চিকিৎসার জন্য তা দান করার সিদ্ধান্ত নেয় শিক্ষার্থীরা। ১৬ আগস্ট তারা নাঈমের দাদার হাতে ৪০ হাজার টাকা তুলে দেন। পরবর্তী সময়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও অন্যান্য শ্রেণির শিক্ষার্থীরাও এই উদ্যোগে যুক্ত হয়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন।

শিক্ষার্থীদের এই ছোট্ট কিন্তু মহৎ উদ্যোগ গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি দেশের প্রধানমন্ত্রীর নজরেও আসে। এরপর নাঈমের মায়ের চিকিৎসায় সহযোগিতার জন্য প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে দুই লাখ টাকা প্রদান করা হয়, যা আজকের অনুষ্ঠানে হস্তান্তর করা হলো।

বিদ্যালয়ের পরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম জানান, শিক্ষার্থীদের এমন মানবিক কাজে তিনি গভীরভাবে আবেগাপ্লুত হয়েছেন। তাদের এই উদ্যোগ প্রধানমন্ত্রীর নজরে পড়েছে এবং এর মাধ্যমে নাঈমের পরিবার সহযোগিতা পেয়েছে—এতে বিদ্যালয়ের সবাই আনন্দিত। নাঈমের বন্ধু ইমরান, জাহিদ ও আপন আগেই বলেছিলেন, পাসের আনন্দে মিষ্টি খাওয়ার চেয়ে সহপাঠীর মায়ের পাশে দাঁড়াতে পেরে তাদের মনে অনেক বেশি ভালো লেগেছে।

নাঈম নিজে জানিয়েছেন, মায়ের অসুস্থতার পর পুরো পরিবারই দুশ্চিন্তায় ছিল। বাবাও বিদেশে গিয়ে এখনও কাজ পাননি। এমন কঠিন সময়ে বন্ধুদের দেওয়া সহযোগিতা এবং প্রধানমন্ত্রীর এই সাহায্য পেয়ে পরিবারের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই সহযোগিতায় তার মায়ের চিকিৎসা আরও ভালোভাবে এগিয়ে যাবে।