বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ মহড়া পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার পূর্ব রহমতপুর এলাকায় এই মহড়া অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, সেনাবাহিনী দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক এবং জনগণের আস্থার প্রতীক। তিনি মন্তব্য করেন, জাতীয় সংকট মোকাবিলা, দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বারবার পেশাদারত্ব ও সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছে। সরকারপ্রধান আরও উল্লেখ করেন, সেনাসদস্যদের শৃঙ্খলা, আত্মত্যাগ ও কর্তব্যনিষ্ঠা দেশের মানুষের মনে তাদের বিশেষ মর্যাদা এনে দিয়েছে। এই আস্থা ও মর্যাদা ধরে রাখতে পেশাদার প্রশিক্ষণ ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর তিনি জোর দেন।

প্রধানমন্ত্রী সেনাসদস্যদের সঙ্গে আন্তরিক সময় কাটান। পায়ে হেঁটে বিস্তীর্ণ জঙ্গলজুড়ে তিনি সেনাসদস্যদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ও যুদ্ধকালীন প্রস্তুতি পর্যবেক্ষণ করেন। ঘন জঙ্গলের ভেতরে দায়িত্ব পালনরত সেনাদের কাছে গিয়ে তিনি তাদের খোঁজখবর নেন এবং নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনে উৎসাহিত করেন।

একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী শত্রুপক্ষের ড্রোন শনাক্ত ও প্রতিরোধে ব্যবহৃত অ্যান্টি-ড্রোন মাল্টি-ব্যারেল সিস্টেমের কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেন। সংশ্লিষ্ট সেনা কর্মকর্তারা তাকে এই প্রতিরক্ষাব্যবস্থার কার্যপদ্ধতি ও যুদ্ধক্ষেত্রে এর ব্যবহার সম্পর্কে বিস্তারিত জানান। পরে তিনি সেনাসদস্যদের সঙ্গে মাটিতে বসে কিছু সময় কাটান এবং তাদের প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতার কথা শোনেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মহড়ায় অংশগ্রহণকারী সেনাদের জন্য যুদ্ধক্ষেত্রের পরিবেশে তাৎক্ষণিকভাবে প্রস্তুতকৃত খাবারও গ্রহণ করেন। কৌটার মধ্যে মোম জ্বালিয়ে তৈরি আগুনে রান্না করা সাদা ভাত, ডাল, আলুভর্তা, চিংড়ি মাছ ও ডিমের তরকারি পরিবেশন করা হয় তাকে।

নিজের সেনা পরিবারে বেড়ে ওঠার কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেনাসদস্যদের কাছে এলে তার খুব ভালো লাগে এবং শৈশবের স্মৃতি মনে পড়ে যায়। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আগামীতে দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিশ্বজুড়ে আরও সুনাম, মর্যাদা ও পেশাগত স্বীকৃতি অর্জন করবে। তিনি আরও বলেন, সেনাবাহিনীর সক্ষমতা ও আধুনিকায়নের জন্য সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ কে এম শামছুল ইসলাম, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ তারিক ও সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।