দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতিতে কৃষি জমির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সরেজমিন উইং রোববার পর্যন্ত সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে জানিয়েছে, ইতিমধ্যে ২৯টি জেলার এক লাখ চার হাজার ৯৩৬ হেক্টর ফসলি জমি প্লাবিত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোর মধ্যে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, নোয়াখালী, সুনামগঞ্জ, খুলনা, বাগেরহাট ও মুন্সিগঞ্জ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
এই প্লাবনে আমন ধানের জন্য তৈরি বীজতলার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। মোট নয় হাজার ৬১৯ হেক্টর বীজতলা পানিতে তলিয়ে গেছে। অন্যদিকে আউশ ধানের জমি প্লাবিত হয়েছে ৭৬ হাজার ৬০ হেক্টর। গ্রীষ্মকালীন সবজির আবাদও বিপর্যস্ত হয়েছে; প্লাবিত সবজি জমির পরিমাণ ১৫ হাজার ৩২৫ হেক্টর। কৃষি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, প্লাবিত বীজতলার পানি দ্রুত না সরলে কৃষকেরা সময়মতো আমনের চারা রোপণ করতে পারবেন না। এর ফলে আমন উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সরেজমিন উইংয়ের পরিচালক মো. ওবায়দুর রহমান মণ্ডল এ বিষয়ে ভিন্ন মত পোষণ করেছেন। তাঁর মতে, প্লাবিত হওয়া মানেই পুরোপুরি ধ্বংস নয়। তিনি বলেন, বৃষ্টি বন্ধ হলে ও পানি নেমে গেলে বীজতলা ও অন্যান্য ফসল রক্ষা পেতে পারে। ক্ষয়ক্ষতি চূড়ান্তভাবে নিরূপণ করতে আরও সময় লাগবে বলে তিনি জানান।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, অতিবৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলোতে এই প্লাবনের প্রভাব বেশি পড়েছে। সুনামগঞ্জের মতো উত্তর-পূর্বাঞ্চলের এলাকাও এর বাইরে নয়। কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, পানি দ্রুত নেমে গেলে এবং আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে ফসলের ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে কৃষকদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। ফসলি জমি প্লাবিত হওয়ায় আগামী মৌসুমের উৎপাদন নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এখন পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে কী ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে, সে বিষয়ে কিছু জানা যায়নি।



