দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান জনবলসংকট দূর করতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। জাতীয় সংসদে এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানান স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। নওগাঁ-৩ আসনের সরকারি দলের সংসদ সদস্য মো. ফজলে হুদার করা ওই প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে মোট এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই নিয়োগ কার্যক্রম দ্রুত শেষ করে দেশের সব সরকারি হাসপাতালে বিদ্যমান শূন্য পদগুলো পূরণ করা হবে বলে তিনি জানান।
একই সঙ্গে মন্ত্রী উল্লেখ করেন, সরকারি হাসপাতালগুলোতে দরিদ্র ও অসচ্ছল রোগীদের জন্য স্বল্প বা বিনা মূল্যে চিকিৎসা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং ওষুধ সরবরাহের ব্যবস্থা চালু রয়েছে। স্বাস্থ্যসেবার এই ধারা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি জনবল সংকট নিরসনে জোর দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
পদোন্নতির বিষয়েও গুরুত্বারোপ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতিবঞ্চিত ও বৈষম্যের শিকার চিকিৎসকদের পদোন্নতি কার্যক্রম ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সিনিয়র কনসালট্যান্ট ও জুনিয়র কনসালট্যান্টের শূন্য পদে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পদায়নের কাজ চলমান রয়েছে। খুব শিগগিরই এই পদোন্নতি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
নিয়োগের চলমান কার্যক্রম সম্পর্কে মন্ত্রী জানান, শূন্য পদে জনবল নিয়োগ একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। এর অংশ হিসেবে ৪৫তম বিসিএসের মাধ্যমে ৪৫০ জন, ৪৬তম বিসিএসের মাধ্যমে ১ হাজার ৬৮২ জন, ৪৭তম বিসিএসের মাধ্যমে ১ হাজার ৩৩১ জন এবং ৫০তম বিসিএসের মাধ্যমে ৬৫০ জন সহকারী সার্জন নিয়োগের কাজ প্রক্রিয়াধীন। এছাড়া সিনিয়র স্টাফ নার্সের শূন্য পদ পূরণে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) মাধ্যমেও নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
মন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সরকারি হাসপাতালের সেবার মান উন্নয়নে এবং চিকিৎসক-নার্স সংকট নিরসনে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশের স্বাস্থ্যখাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।



