মহাকাশের অসীম বিস্তৃতিতে ভেসে বেড়ানো মানবসৃষ্ট বর্জ্যের নতুন সংকট তৈরি করছে। আগামী সপ্তাহে ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের একটি পরিত্যক্ত রকেট চাঁদের গায়ে আছড়ে পড়বে বলে বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত হয়েছেন। রকেটটি শব্দের গতির তুলনায় সাত গুণ বেশি বেগে চাঁদের পৃষ্ঠে ধাক্কা মারবে, যার ফলে একটি বৃহৎ গর্তের সৃষ্টি হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংঘর্ষ ঘটবে চাঁদের আলোকিত অংশের আইন্সটাইন ক্রেটারের নিকটবর্তী এলাকায়।
প্রায় এক বছর আগে দুটি লুনার ল্যান্ডার উৎক্ষেপণের সময় এই রকেটটি ব্যবহার করা হয়েছিল। সংঘর্ষের সময় আলোর ঝলকানি এক সেকেন্ডেরও কম সময় স্থায়ী হবে, যা সাধারণ চোখে দেখা বেশ দুরূহ হবে। তবে সংঘর্ষের পর উৎপন্ন ধুলাবালু মহাকাশে কয়েক মাইল পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে, এবং টেলিস্কোপের মাধ্যমে সেই দৃশ্য প্রায় ১০ মিনিট পর্যন্ত স্পষ্টভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে।
উল্লেখ্য, এটি হবে চাঁদে আছড়ে পড়া দ্বিতীয় পরিত্যক্ত রকেট। এর আগে ২০২২ সালে চীনের একটি পরিত্যক্ত রকেট চাঁদের অপর পৃষ্ঠে আছড়ে পড়েছিল। লস আলামোস ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির বিজ্ঞানী বেঞ্জামিন ফার্নান্দো বলেন, চাঁদের মাধ্যাকর্ষণ শক্তি কম এবং সেখানে ধুলা উড়িয়ে দেওয়ার মতো কোনো বায়ুমণ্ডল নেই। তিনি আরও জানান, এই ঘটনার প্রতি তাদের আগ্রহের মূল কারণ হলো বর্জ্যের আঘাত ভবিষ্যতের নভোচারীদের জন্য কতটা বিপজ্জনক হতে পারে, তা বোঝা।
তৈরি হওয়া গর্তটি প্রায় ৯০ ফুট চওড়া এবং ১৬ ফুট গভীর হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পৃথিবী থেকে এই দৃশ্য সরাসরি দেখা না গেলেও বিভিন্ন মহাকাশযানের মাধ্যমে তা স্পষ্টভাবে পর্যবেক্ষণ করা যাবে। নাসার লুনার রিকনিসান্স অরবিটার এবং দক্ষিণ কোরিয়ার দানুরি লুনার অরবিটার দুর্ঘটনাস্থলের পূর্ববর্তী ও পরবর্তী ছবি সংগ্রহ করবে। ফার্নান্দো এবং তার গবেষক দল জানিয়েছেন, সংঘর্ষের ঠিক দুই মিনিট আগে দানুরি মহাকাশযানটি স্পেসএক্সের রকেটের মাত্র এক থেকে দুই মাইলের মধ্যে অবস্থান করবে, যা পর্যবেক্ষণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


