জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ইউনিসেফের গ্লোবাল টিমের একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক আজ মঙ্গলবার সকালে গাজীপুরের মূল ক্যাম্পাসে উপাচার্য দপ্তরের কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় মাইক্রো-ক্রেডেনসিয়াল একাডেমি প্রতিষ্ঠা ও কোর্স উন্নয়ন, দক্ষতাভিত্তিক পাঠ্যক্রম, আইসিটি ও ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি, কারিকুলাম উন্নয়ন এবং দেশের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে গবেষণার সম্ভাব্যতা যাচাইসহ নানা বিষয় আলোচনায় উঠে আসে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সক্ষমতা বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গৃহীত উদ্যোগগুলোও পর্যালোচনা করা হয়।

উপাচার্য অধ্যাপক এ এস এম আমানুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে ইউনিসেফের সাত সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন সংস্থাটির প্রধান কার্যালয়ের জেনারেশন আনলিমিটেডের সিনিয়র উপদেষ্টা থমাস মাইকেল কে। সভায় সহ-উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক নাজমুল হোসাইন শারীরিকভাবে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া সহ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান ভার্চুয়ালি যুক্ত হন। ইউনিসেফ বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আলোচনায় অংশ নেন প্রধান কার্যালয়ের শিক্ষা প্রযুক্তিবিশেষজ্ঞ আপো কুসেলা, পিটুই গ্লোবাল সমন্বয়ক আইরিস মে এলেন ক্যালোগ, প্রোগ্রাম স্পেশালিস্ট ফাহমিদা শবনাম ও ইস্তানুল কবির।

বৈঠকে ‘জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ: জার্নি, অ্যাচিভমেন্ট অ্যান্ড রোডম্যাপ টু ২০৩০’-এর অধীনে ‘ট্রান্সফর্মিং হায়ার এডুকেশন ফর আ স্কিলড, ডিজিটাল অ্যান্ড ইনক্লুসিভ বাংলাদেশ’ শীর্ষক কার্যক্রমের অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। তরুণদের দক্ষতা বৃদ্ধি, কর্মমুখী শিক্ষা সম্প্রসারণ এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপুলসংখ্যক গ্রাজুয়েটকে মানবসম্পদে রূপান্তরের কৌশল নিয়েও মতবিনিময় হয়। দক্ষ, কর্মমুখী, ডিজিটাল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও ইউনিসেফ বাংলাদেশের মধ্যে চলমান সহযোগিতা আরও জোরদার এবং ভবিষ্যতে কার্যক্রম সম্প্রসারণের বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়।

উপাচার্য অধ্যাপক এ এস এম আমানুল্লাহ বলেন, দেশের ফরমাল ও ইনফরমাল সেক্টরে প্রতিবছর ৭০ শতাংশ গ্রাজুয়েট তৈরি করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীকে দক্ষ ও কর্মমুখী করে তুলতে ইউনিসেফ বাংলাদেশের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তিনি উল্লেখ করেন, শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়নে বিশ্ববিদ্যালয়টি আইসিটি ও ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরিতে দেশের অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞদের সম্পৃক্ত করেছে। এই কার্যক্রম আরও এগিয়ে নিতে ইউনিসেফের সঙ্গে সহযোগিতা সম্প্রসারণের পাশাপাশি সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি তুলে ধরেন। আন্তর্জাতিক মানের দক্ষতা অর্জনে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে উপাচার্য বলেন, আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে ডিগ্রিধারীদের দক্ষতা ও যোগ্যতার চাহিদা তৈরি করতে কাজ চলছে এবং এ লক্ষ্যে ইউনিসেফ বাংলাদেশকে লিড পার্টনার হিসেবে পাশে পাওয়ার প্রত্যাশা করেন তারা।

ইউনিসেফের সিনিয়র উপদেষ্টা থমাস মাইকেল কে বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বিশাল একটি প্রতিষ্ঠান এবং বিপুলসংখ্যক তরুণ এর সঙ্গে যুক্ত। তাঁদের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে একসঙ্গে কাজ করার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠীর জন্য দক্ষতা ও কর্মমুখী শিক্ষার সুযোগ আরও সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন এবং এ লক্ষ্যেই অংশীদারত্ব অব্যাহত থাকবে। বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার টারশিয়ারি স্তরে কাজ করার অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তৈরি মডেলটি বিশ্বের অন্যান্য দেশেও বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

রেজিস্ট্রার মোল্লা মাহফুজ আল-হোসেনের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন স্নাতকোত্তর শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রের ডিন (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ফকির রফিকুল আলম, কারিকুলাম উন্নয়ন ও মূল্যায়ন কেন্দ্রের ডিন (ভারপ্রাপ্ত) এ এইচ এম রুহুল কুদ্দুস, ইনস্টিটিউট অব ফরেনসিক সায়েন্সের পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ বিন কাশেম, শিক্ষক প্রশিক্ষণ দপ্তরের পরিচালক সালমা পারভীন, ফ্যাকাল্টি অব বিজনেস স্টাডিজের চেয়ারম্যান মো. মুজাহিদুল ইসলাম এবং আইসিটির (কারিকুলাম) ফোকাল পারসন সহযোগী অধ্যাপক নাজমা তারা।