কর্মক্ষেত্রে হয়রানি বা শাস্তিমূলক তদন্তের ক্ষেত্রে এখন আর কেবল একটি স্ক্রিনশট দেখিয়ে প্রমাণ করা সম্ভব হচ্ছে না। ডিজিটাল ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিচ্ছেন যে, জাল টেক্সট মেসেজ তৈরি ও প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপনের ঘটনা বেড়েই চলেছে। ফলে, যেসব মামলায় আগে কখনো ডিজিটাল ফরেনসিকের প্রয়োজন হতো না, সেগুলো এখন মেসেজের পেছনের প্রকৃত ডিভাইস ও তার লগ পরীক্ষা করে তবেই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

একজন বিশেষজ্ঞের মতে, একটি সাধারণ স্ক্রিনশট সহজেই এডিট করা যায় এবং বর্তমান প্রযুক্তিতে তা শনাক্ত করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই শুধুমাত্র স্ক্রিনশটের ওপর ভিত্তি করে কোনো কর্মচারীকে শাস্তি দেওয়া বা মামলা রুজু করা ঝুঁকিপূর্ণ। বরং, মেসেজের মেটাডেটা, টাইমস্ট্যাম্প এবং ডিভাইসের আইপি ঠিকানা যাচাই করার ওপর জোর দিচ্ছেন আইনজীবী ও তদন্তকারীরা।

এই পরিস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের অভ্যন্তরীণ তদন্ত পদ্ধতি আপডেট করতে বাধ্য হচ্ছে। অনেক বড় কোম্পানি এখন তৃতীয় পক্ষের ডিজিটাল ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ নিয়োগ করছে, যারা মেসেজের সত্যতা যাচাই করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, কেবল টেক্সট নয়, হোয়াটসঅ্যাপ, স্ল্যাক বা ইমেইলের ক্ষেত্রেও একই সতর্কতা প্রয়োজন।

কর্মক্ষেত্রে এই ধরনের জালিয়াতি রোধে আইনগত কাঠামো আরও শক্তিশালী করার দাবি উঠছে। বিশেষ করে, যৌন হয়রানি বা বৈষম্যের মামলায় প্রমাণ হিসেবে ডিজিটাল বার্তা ব্যবহারের সময় তার সত্যতা নিশ্চিত করা এখন একটি বাধ্যতামূলক পদক্ষেপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্যথায়, ভুল প্রমাণের ভিত্তিতে নির্দোষ ব্যক্তি শাস্তির মুখে পড়তে পারেন বা প্রকৃত অপরাধী পার পেয়ে যেতে পারেন।

সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আদালতগুলো এখন ডিজিটাল ফরেনসিক রিপোর্ট ছাড়া টেক্সট মেসেজকে প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করতে দ্বিধা বোধ করছে। ফলে, আইনজীবী ও মানবসম্পদ বিভাগকে ডিজিটাল সাক্ষ্য সংগ্রহের নতুন কৌশল শিখতে হচ্ছে। এই পরিবর্তন শুধু বড় কোম্পানির জন্য নয়, ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।