ছাত্র আন্দোলনের মুখে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার শিক্ষা সংস্কারের লক্ষ্যে নতুন একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠন করলেও বিতর্ক থামছে না। লোকসভায় কংগ্রেসের সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী কটাক্ষ করে বলেন, এই কমিটিতে গোমূত্রের গুণাগুণ নিয়ে প্রচারকারী একজন তথাকথিত বিশেষজ্ঞ এবং সাবেক গোয়েন্দা প্রধানকে রাখা হয়েছে, যা অত্যন্ত হাস্যকর। তিনি স্পিকার ওম বিড়লার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে উদ্দেশ করে বলেন, তার পরামর্শদাতাদের বদলানো জরুরি, নাহলে নতুন কমিটি গঠন করে কোনো লাভ হবে না—সেটির নেতৃত্বে যিনিই থাকুন না কেন।

প্রিয়াঙ্কা গান্ধী কারও নাম উল্লেখ না করলেও তাঁর ইঙ্গিত স্পষ্ট—গোমূত্র বিশেষজ্ঞ হিসেবে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন আইআইটি মাদ্রাজের পরিচালক ভি কামাকোটিকে। কামাকোটি আগে এক অনুষ্ঠানে দাবি করেছিলেন, গোমূত্রে ছত্রাকনাশক ও জীবাণুনাশক গুণ রয়েছে, এটি হজমশক্তি বাড়ায় এবং ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোমের মতো রোগ নিরাময়ে সহায়ক। তিনি এমনকি একটি ঘটনার উল্লেখ করে বলেন, এক সন্ন্যাসী জ্বরের সময় গোমূত্র পানের ১৫ মিনিটের মধ্যে সুস্থ হয়ে গিয়েছিলেন। তাঁর এই মন্তব্য দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছিল।

প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ছাত্রদের বিক্ষোভের পর কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে সরিয়ে মোদি সরকার এই সংস্কার কমিটি গঠন করে। কমিটির সভাপতি করা হয়েছে প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ও ইনফোসিসের সহপ্রতিষ্ঠাতা নন্দন নিলেকেনিকে, যিনি আধার প্রকল্পের জন্যও পরিচিত। অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক স্কুলশিক্ষা সচিব অনীতা করওয়াল, ইসরোর সাবেক চেয়ারম্যান এস সোমনাথ, সাবেক আইএএস অমৃতলাল মীনা, কামাকোটি ও সাবেক গোয়েন্দা ব্যুরো প্রধান তপন ডেকা।

প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর এই মন্তব্যে বিজেপি সদস্যরা তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। বিজেপি সাংসদ অনুরাগ ঠাকুর বলেন, কামাকোটির মতো একজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদকে অপমান করার কোনো অধিকার প্রিয়াঙ্কার নেই। আরএসএসের সঙ্গে কামাকোটির যোগাযোগ আপত্তির কারণ হতে পারে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

প্রিয়াঙ্কা আরও জানান, প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে সংসদে পেশ করা বিলে সর্বোচ্চ ১০ বছর জেল ও ১০ কোটি টাকা জরিমানার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। অভিযোগের তদন্ত দুই মাসের মধ্যে শেষ করতে হবে এবং তা দ্রুত বিচার আদালতে পরিচালিত হবে। তবে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ২০২৪ সালে ইসরোর সাবেক চেয়ারম্যান কে রাধাকৃষ্ণনের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠিত হয়েছিল, যার সুপারিশ আজও বাস্তবায়িত হয়নি। এখন আবার নতুন কমিটি করে কী লাভ? বর্তমানে দেশে ১ হাজার ৬৩৬টি দ্রুত বিচার আদালত থাকলেও সেখানে ২ লাখ ৪৫ হাজার ৫৭৯টি মামলা ঝুলে আছে। ২০২৫ সালে এসব আদালতে দাখিল হওয়া ১ লাখ ৪৩ হাজার ৯৩৬টি মামলার মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে মাত্র ৬৬ হাজার ৫০০টি।