ভারতে সম্প্রতি সমাপ্ত হওয়া শিক্ষার্থী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় চরিত্র অভিজিৎ দিপকের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনার অবসান ঘটিয়েছেন তাঁর বাবা ভগবান শঙ্কর। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তার ছেলে কোনোদিন রাজনীতিতে পা রাখবে না। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ প্রতিক্রিয়া জানান।
মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজিনগরে (সাবেক আওরাঙ্গাবাদ) বসবাসরত ভগবান শঙ্কর পেশায় মহারাষ্ট্র ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভেলপমেন্ট করপোরেশনের একজন অবসরপ্রাপ্ত সিভিল ইঞ্জিনিয়ার। তিনি জানান, তাদের গোটা পরিবার কখনোই রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল না, এমনকি গ্রাম পর্যায়ের পঞ্চায়েতের প্রধানও কেউ হননি। এই প্রেক্ষিতে অভিজিৎ দিপকের বিরাট কোনো রাজনৈতিক উচ্চাভিলাস নেই বলে তিনি জোর দেন।
পুত্রের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে এই পিতা তার গভীর আকাঙ্ক্ষার কথা ব্যক্ত করে বলেন, 'ওকে নিয়ে আমার সবচেয়ে বড় স্বপ্ন, সে যেন সিভিল সার্ভিসে যোগ দেয়। আমি ওকে সব সময় বলতাম, ইউপিএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারলে তার একটি নিরাপদ ও স্থিতিশীল কর্মজীবন হবে।' অপরপক্ষে, অভিজিৎ এর বড় বোনের ইচ্ছা ছিল সে বাবার মতো ইঞ্জিনিয়ার হয়। তবে দিপকের নিজের পছন্দ ছিল সাংবাদিকতা। তার ক্রিকেটের প্রতিও প্রচণ্ড নেশা রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১৬ মে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) প্রতিষ্ঠা করেন অভিজিৎ দিপকে। অনলাইন প্ল্যাটফর্মেই শুরু হয় তার পথচলা। পরবর্তীতে ভারতের মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও পরীক্ষা বাতিলের প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে যন্তর মন্তরে চলা আন্দোলনে যোগ দিতে ৬ জুন দেশে ফেরেন। গতকাল শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পর সিজেপি তাদের আন্দোলনের সমাপ্তি ঘোষণা করে।
ছেলের সাফল্যে মা অনিতা আবেগঘন প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, 'এটা জয়। অভিজিৎ ধৈর্য ধরে লড়াই করছে। তাকে চড় মারা হয়েছে, নানা অপবাদ দেওয়া হয়েছে। এত অল্প বয়সেই সে এত বড় অর্জন করেছে।' ভগবান শঙ্করও ছেলের এতটা বড় হয়ে ওঠার কথা কখনো কল্পনা করেননি বলে মন্তব্য করেন।
আজ সকালে দেশের মঙ্গল কামনায় গ্রামের একটি মন্দিরে গিয়ে প্রার্থনা করেন ভগবান শঙ্কর। প্রসঙ্গত, ২০২১ সালে পুনের তিলক মহারাষ্ট্র বিদ্যাপীঠ থেকে সাংবাদিকতা বিষয়ে স্নাতক শেষ করার পর জনসংযোগে উচ্চতর ডিগ্রি নিতে বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ অব কমিউনিকেশন ভর্তি হন দিপকে। বাবা তখন অবসরের দ্বারপ্রান্তে থাকায় শিক্ষাঋণ নিয়ে তাকে বিদেশে পড়তে পাঠান। 'আমি এখনও তার শিক্ষাঋণ পরিশোধ করছি,' যুক্ত করেন ভগবান শঙ্কর।




