কক্সবাজারের টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন চন্দ্রিমা ঝিরঝিরিপাড়া এলাকায় শনিবার রাতে ভয়াবহ পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে মাটিচাপা পড়ে রোজিনা আক্তার (৩৪) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। তবে তার স্বামী মুজিবুর রহমান ও তিন শিশুসন্তান অল্পের জন্য রক্ষা পান।

কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের কলাতলী ১ নম্বর ওয়ার্ডে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। শনিবার সকাল থেকে অবিরাম ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছিল। রাত সাড়ে ৯টার দিকে মুজিবুর রহমানের টিনের আধাপাকা ঘরের পাশের প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ ফুট উঁচু একটি পাহাড়ের মাটির বিশাল খণ্ড ধসে পড়ে। এতে রান্নাঘরটি সম্পূর্ণ ভেঙে যায় এবং সেখানে থাকা রোজিনা আক্তার পুরোপুরি মাটির নিচে চাপা পড়েন।

ঘটনার আকস্মিক শব্দ শুনে স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল মাজেদসহ কয়েকজন দ্রুত সেখানে ছুটে যান। তারা দেখতে পান, পুরো পরিবারই মাটিচাপা অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয়রা নিজেদের চেষ্টায় মুজিবুর রহমান ও তার তিন শিশুসন্তানকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও রোজিনাকে বের করে আনা সম্ভব হচ্ছিল না। পরিস্থিতি বিবেচনায় তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করা হয়।

রাত সোয়া ১০টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধার অভিযান শুরু করে। টানা দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় রাত ১১টার দিকে রোজিনা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কক্সবাজারের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মোহাম্মদ মোরশেদ আলম জানান, দীর্ঘক্ষণ মাটির নিচে চাপা পড়ে থাকার কারণে রোজিনা শ্বাস নিতে ব্যর্থ হন। সে কারণেই তাকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, ওই পাহাড়ি এলাকায় এখনও অসংখ্য ঘরবাড়ি ধসের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। বারবার মাইকিং করে সতর্ক করা সত্ত্বেও বাসিন্দারা নিরাপদ স্থানে সরে যেতে রাজি হচ্ছেন না।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। প্রসঙ্গত, এর আগে ৭ জুলাই একই এলাকার বড়ছড়া পাহাড়ের হাজিঘোনায় আরেকটি পাহাড়ধসে লিমা আক্তার (২৫) নামে অপর এক গৃহবধূ নিহত হন এবং তার স্বামী জসিম উদ্দিন গুরুতর আহত হন।