ক্যারিয়ারের প্রায় শেষ প্রান্তে এসে দাঁড়িয়েও লিওনেল মেসির প্রতিপক্ষের তালিকায় একটি নাম অসম্পূর্ণ ছিল—ইংল্যান্ড। অবশেষে আগামীকাল আটলান্টায় বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে সেই অপূর্ণতা ঘোচানোর সুযোগ এসেছে তাঁর সামনে। আর্জেন্টিনা কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে শেষ চারে ওঠে, অন্যদিকে নরওয়েকে হারিয়ে ইংল্যান্ড নিশ্চিত করে তাদের স্থান। এর মাধ্যমেই নিশ্চিত হয় বহু প্রতীক্ষিত এই লড়াই, যেখানে প্রথমবার ইংল্যান্ড জাতীয় দলের বিপক্ষে মাঠে নামবেন মেসি।
ক্লাব পর্যায়ে ইংলিশ প্রতিপক্ষ মেসির কাছে অপরিচিত নয়। বার্সেলোনার জার্সিতে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, চেলসি, ম্যানচেস্টার সিটি, লিভারপুল ও আর্সেনালের বিপক্ষে মোট ৩৬ ম্যাচ খেলে ২৭ গোল ও ৬ অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি। ২০১০ চ্যাম্পিয়নস লিগে আর্সেনালের বিপক্ষে চার গোলের সেই রাত ফুটবল ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তবে জাতীয় দলের স্তরে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নিজেকে পরখ করার সৌভাগ্য হয়নি তাঁর।
এর পেছনে রয়েছে এক কাকতালীয় ঘটনা। সর্বশেষ আর্জেন্টিনা–ইংল্যান্ড মুখোমুখি হয়েছিল ২০০৫ সালের নভেম্বরে। তার তিন মাস আগেই হাঙ্গেরির বিপক্ষে অভিষেক ম্যাচ দিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে পা রাখেন মেসি। কিন্তু সেই ম্যাচেই লাল কার্ড দেখায় স্বয়ংক্রিয় নিষেধাজ্ঞার কারণে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলা হয়নি তাঁর। সে সময় বিষয়টি তেমন গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়নি। কিন্তু পরবর্তী ২১ বছরে আর কোনো মঞ্চেই দুই দলের দেখা না হওয়ায় মেসির জন্য ইংল্যান্ড বনাম খেলাটি এখন বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।
আর্জেন্টিনা–ইংল্যান্ড ম্যাচ বিশ্বকাপে সব সময়ই এক গভীর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ধারণ করে। ১৯৮৬ সালে ডিয়েগো ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ ও ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’, ১৯৯৮ সালে ডেভিড বেকহামের লাল কার্ড, ২০০২ সালে ইংল্যান্ডের জয়—প্রতি ম্যাচেই ইতিহাসের রং একটু গাঢ় হয়েছে। ১৯৮৭ সালে জন্ম নেওয়া মেসি ১৯৮৬ সালের সেই বিখ্যাত কোয়ার্টার ফাইনাল নিজ চোখে দেখার সুযোগ পাননি। তবে আর্জেন্টিনায় বড় হওয়ার প্রক্রিয়ায় সেই ম্যাচের গল্প, ভিডিও ও ছবি তাঁর ফুটবল–স্মৃতিরই অংশ হয়ে উঠেছে। ইএসপিএন আর্জেন্টিনাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মেসি জানান, ‘৮৬’ ম্যাচের যত স্মৃতি তাঁর আছে, সবই ভিডিও আর ছবির মাধ্যমে। আর্জেন্টিনার মানুষ বারবার সেই ম্যাচগুলো দেখে, স্মরণ করে।
মেসি অবশ্য বলেছেন, প্রতিপক্ষ যে–ই হোক, তাদের দল নিজের ফুটবলটাই খেলে। তবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এই ম্যাচের বিশেষত্ব তিনি স্বীকার করেছেন। তাঁর মতে, ইংল্যান্ড বিশ্বের অন্যতম ফুটবল পরাশক্তি, আর পরাশক্তিদের বিপক্ষে ম্যাচ সব সময়ই আলাদা। ব্যক্তিগতভাবে এটাই হবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তাঁর প্রথম ম্যাচ, যা এই ম্যাচটিকে তাঁর কাছে আরও বিশেষ করে তুলেছে।
এই বিশ্বকাপে মেসির পারফরম্যান্সও উল্লেখযোগ্য। এখন পর্যন্ত তিনি আট গোল করেছেন, যা কিলিয়ান এমবাপ্পের সঙ্গে যৌথভাবে সর্বোচ্চ। আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক দিয়ে শুরু, এরপর অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল আর জর্ডান, কেপভার্দে ও মিসরের বিপক্ষে করেছেন একটি করে গোল। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে গোল না পেলেও একটি অ্যাসিস্ট করেছেন। এখন তাঁর সামনে শুধু আরেকটি সেমিফাইনালই নয়, বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত এক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রথমবার নিজের নাম লেখানোর উপলক্ষও।


