যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবল রেফারি ইসমায়েল এলফাতের হাতে তুলে দেওয়া হলো বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালের দায়িত্ব। আগামী বুধবার (১৫ জুলাই) আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার ম্যাচটি পরিচালনা করবেন তিনি। ফিফা নিয়ম অনুযায়ী ম্যাচের একদিন আগে অফিশিয়ালদের নাম ঘোষণা করেছে।

৪৪ বছর বয়সী এই রেফারি এবারের আসরে ইতিমধ্যে তিনটি ম্যাচ পরিচালনা করেছেন। গ্রুপ পর্বে নেদারল্যান্ডস-জাপান ও উরুগুয়ে-স্পেন ম্যাচে বাঁশি বাজান তিনি। শেষ ষোলোতে ব্রাজিল-নরওয়ে ম্যাচেও তাঁরই নেতৃত্বে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ব্রাজিলকে ২-১ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল নরওয়ে। উল্লেখ্য, শেষ ষোলো ও কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষদের রেফারিং নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করার পরে এই সেমিফাইনালের রেফারি নির্বাচন নিয়ে বাড়তি আগ্রহ দেখা গিয়েছে।

এলফাতের সহকারী হিসেবে থাকবেন তাঁরই স্বদেশি কোরি পার্কার ও কাইল অ্যাটকিনস। চতুর্থ রেফারি হিসেবে ইতালির মাউরিজিও মারিয়ানি এবং রিজার্ভ সহকারী রেফারি দানিয়েলে বিনদোনি দায়িত্ব পালন করবেন।

ইসমায়েল এলফাতের জন্ম উত্তর আফ্রিকার দেশ মরক্কোতে। ২০০১ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে ডাইভারসিটি ভিসা লটারিতে সুযোগ পেয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান তিনি। বর্তমানে টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে বসবাস করছেন। ২০১২ সাল থেকে মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) ম্যাচ পরিচালনা করছেন এলফাত। ২০১৬ সালে ফিফার আন্তর্জাতিক রেফারির তালিকায় নাম ওঠে তাঁর।

উত্তর আমেরিকার অন্যতম সেরা রেফারি হিসেবে বিবেচিত এলফাত ইতিমধ্যে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য ম্যাচ পরিচালনার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে ২০২২ এমএলএস কাপ ফাইনাল ও ২০২৬ কনক্যাকাফ চ্যাম্পিয়নস কাপের ফাইনাল। দুই বার তিনি এমএলএস বর্ষসেরা রেফারির খেতাব জিতেছেন। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ ছিল তাঁর প্রথম বিশ্বকাপ আসর। সেই আসরে ফ্রান্স-আর্জেন্টিনা ফাইনালে তিনি চতুর্থ রেফারির ভূমিকা পালন করেছিলেন।

এবারের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার ম্যাচে রেফারিংকে ঘিরে বিতর্ক কম নয়। শেষ ষোলোয় মিসরের কাছে হারের পর মিসর সরাসরি অভিযোগ তোলে যে রেফারির সিদ্ধান্তে মেসি ও আর্জেন্টিনাকে সুবিধা দেওয়া হয়েছে। একই অভিযোগ ওঠে সুইজারল্যান্ডের কাছ থেকে কোয়ার্টার ফাইনালে হারের পর। এই প্রেক্ষাপটে সেমিফাইনালের রেফারি হিসেবে এলফাতের নাম ঘোষণা হওয়ায় সব দৃষ্টি এখন তাঁর দিকে।

বিশ্বকাপের রেফারি নির্বাচন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও ফিফা তাদের নিয়ম অনুযায়ীই অফিশিয়ালদের নাম চূড়ান্ত করেছে বলে জানা গেছে। এলফাতের জন্য এটি ক্যারিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ হতে চলেছে।