আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলন শেষে বিশ্বনেতারা একটি অপ্রত্যাশিত উপহার পেয়ে ধাঁধায় পড়ে গেছেন। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান সম্মেলনে অংশ নেওয়া প্রতিটি নেতাকে একটি করে রিভলবার এবং ছয়টি তাজা গুলি উপহার দিয়েছেন। এই ব্যতিক্রমী উপহার নিয়ে প্রথমে মুখ খোলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। ফেরার পথে উড়োজাহাজে সাংবাদিকদের তিনি জানান, কালো আস্তরণ দেওয়া লাল বাক্সে রাখা রিভলবারগুলোর গায়ে প্রত্যেকের নাম খোদাই করা আছে। পাশে রাখা চিরকুটে উল্লেখ করা হয়, এই অস্ত্রের ক্ষেত্রে রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আইন প্রযোজ্য হবে না।

এই উপহার বিভিন্ন প্রতিনিধিদলের নিরাপত্তাকর্মীদের জন্য এক উদ্ভট পরিস্থিতি তৈরি করে। ন্যাটো সদস্যদেশের একাধিক কর্মকর্তা এই উপহারকে অন্ততপক্ষে বিস্ময়কর বলে মন্তব্য করেন। হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী পিটার মাজিয়ার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্ট দিয়ে জানান, তিনি নাম খোদাই করা ম্যাগনাম রিভলবার ও গুলি পেয়েছেন। বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী বার্ট ডি ওয়েভার নিজ দেশে ফিরে এসেই উপহারটির প্রকৃত ধরন সম্পর্কে অবহিত হন। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে এটি বিমানবন্দর পুলিশের হাতে তুলে দেন এবং নিরাপদ সিন্দুকে রেখে যথাযথ নিয়মে সুরাহা করার নির্দেশ দেন।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ কর্মকর্তা উরসুলা ভন ডার লেন এবং আন্তোনিও কস্তাকেও এই রিভলবার দেওয়া হয়। তাঁদের নিরাপত্তা দলের ওপর উপহার সামলানোর দায়িত্ব পড়ে। ভন ডার লেনের মুখপাত্র জানান, উপহারটির জন্য এরদোয়ানকে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে। তবে রিভলবারটি অকেজো করে ফেলা হবে এবং পরে একটি সামরিক জাদুঘরে দান করা হবে। পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট ক্যারল নাওরোকির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে পোলিশ পুলিশপ্রধান ইউক্রেন থেকে উপহার হিসেবে আনা ট্যাংকবিধ্বংসী গ্রেনেড লঞ্চার বিস্ফোরণের ঘটনা সবার মনে এখনো তাজা। সেই ঘটনায় তিনি সামান্য আহত হলেও পুলিশ সদর দপ্তরের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল। এই স্মৃতি মাথায় রেখে নাওরোকির সহযোগী স্থানীয় রেডিওকে জানান, অন্তত এটুকু নিশ্চিত যে কেউ এটি দিয়ে গুলি ছুড়তে যাচ্ছে না।

উপহার পাওয়া বেশ কয়েকটি রিভলবার আপাতত তুরস্কের রাজধানীতেই রেখে দেওয়া হয়েছে। স্টারমার, জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস এবং নেদারল্যান্ডসের প্রধানমন্ত্রী রব জেটেনের রিভলবারও এগুলোর মধ্যে রয়েছে। প্রচলিত আইন অনুযায়ী, এক দেশ থেকে আরেক দেশে সম্পূর্ণ সচল আগ্নেয়াস্ত্র পরিবহন করা অত্যন্ত জটিল একটি প্রক্রিয়া, যা এই ঘটনায় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।