গত শনিবার হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক কাঠামো নির্ধারণে ওমান সফর করেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে দেড় মাস ধরে চলা আলোচনার ধারাবাহিকতায় এই সফর। হরমুজ প্রণালি পরিচালনায় ওমানের সাথে সমন্বয়ের কথা জানিয়ে ইরান জানিয়েছে, এই জলপথ ব্যবহারকারী জাহাজগুলোকে 'সার্ভিস ফি' দিতে হবে।
এদিকে ইউরোপের দেশগুলো হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের জন্য 'নেভিগেশন ফি' আদায়ের প্রস্তাব নীতিগতভাবে বিবেচনা করছে। তবে তাদের শর্ত, এই ফি কোনোভাবেই বাধ্যতামূলক হবে না। একইসঙ্গে জাতিসংঘের সমুদ্র পরিবহন বিষয়ক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের (আইএমও) সমর্থন থাকতে হবে বলে তারা মনে করে। যুক্তরাজ্যের উপপ্রধানমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি গত শনিবার বলেন, হরমুজ প্রণালিতে বাধ্যতামূলক টোল আরোপ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য বিপর্যয়কর হবে। তবে তার মন্ত্রিসভার কয়েকজন সদস্য মনে করেন, মালাক্কা প্রণালি ও ইংলিশ চ্যানেলসহ বিশ্বের বিভিন্ন জলপথে নির্দিষ্ট সেবার বিনিময়ে অর্থ আদায় আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত।
ওমান এই প্রস্তাবের পক্ষে যে, প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কিছু সেবা দেওয়া হলে তার জন্য স্বেচ্ছাধীন অর্থ আদায় করা যেতে পারে। ওমান মনে করে, এর মাধ্যমে ইরান কিছু অর্থ পেতে পারে, তবে তা একতরফা বাধ্যতামূলক টোল হিসেবে নয়। ওমানের লক্ষ্য হরমুজ প্রণালিকে আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় রাখা এবং জাহাজ চলাচল অবাধ রাখা। এ লক্ষ্যে তারা তেহরানকে একটি প্রস্তাবও দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কাছে প্রকাশ্যে ঘোষণা দাবি করেছে যে হরমুজ প্রণালি এখন খোলা রয়েছে এবং তারা বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বন্ধ করবে। মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তেহরানের নেতৃত্বের কাছে বার্তা পাঠিয়েছে ওয়াশিংটন। তবে ইরানের অবস্থান যে কোনো ধরনের আর্থিক প্রণোদনা বা প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেওয়া নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্লেষকরা। ইউনিভার্সিটি অব নিউ সাউথ ওয়েলসের সমুদ্র বিষয়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ জেনিফার পার্কার বিবিসিকে বলেন, ইরানের আসল উদ্দেশ্য শুধু ফি আদায় নয়, বরং প্রণালিটির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা। ওয়াশিংটনের উচিত বিষয়টি নতুন করে ভাবা যে কিছু ছাড় পেলে তেহরান হরমুজ ছেড়ে দেবে—এই ধারণা বদলানো দরকার।
উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবাহিত হয়। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বিরোধের কেন্দ্রবিন্দু এই প্রণালি। গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমন্বিত আগ্রাসনের পর ইরান কার্যকরভাবে এই জলপথ বন্ধ করে দেয় এবং নিয়ন্ত্রণ নেয়। ১৭ জুন স্বাক্ষরিত ১৪ দফার যুদ্ধবিরতি সমঝোতা স্মারকের অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ প্রশাসন নির্ধারণে ইরান ও ওমানকে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনার কথা বলা হয়েছিল।




