ষোলো বছর পর আবার বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে স্পেন। ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় শিরোপা জেতা দলের সঙ্গে বর্তমান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে গড়া দলের বেশ কিছু সাদৃশ্য ও ভিন্নতা চোখে পড়ে।

প্রথমেই আসা যাক কোচ প্রসঙ্গে। ভিসেন্তে দেল বস্কের বয়স তখন ৫৯ বছর, অন্যদিকে দে লা ফুয়েন্তে ৬৫। তবে অভিজ্ঞতায় দেল বস্ক এগিয়ে—তিনি রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছেন। দে লা ফুয়েন্তে অবশ্য গত ১৩ বছর ধরে স্পেনের বিভিন্ন বয়সভিত্তিক দলের দায়িত্বে রয়েছেন এবং ইতিমধ্যে ইউরো জিতেছেন, ন্যাশনস লিগের ফাইনালেও পৌঁছেছেন।

গোলরক্ষক ইকার ক্যাসিয়াস ও উনাই সিমন—দুইজনই ২৯ বছর বয়সী। তবে ক্যাসিয়াস তখন স্পেনের অধিনায়ক এবং রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছিলেন। সিমন অভিজ্ঞতায় কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও এই বিশ্বকাপে মাত্র একটি গোল হজম করেছেন এবং ছয় ম্যাচে ক্লিন শিট রেখেছেন। টানা ৬০২ মিনিট গোল হজম না করার রেকর্ড গড়েছেন তিনি।

ফুলব্যাক বিভাগে সার্জিও রামোস ও জোয়ান ক্যাপডেভিয়া বর্তমান দলের পেদ্রো পোরো ও মার্ক কুকুরেয়ার মুখোমুখি। রামোস-ক্যাপডেভিয়া জুটি তখন ফর্মের তুঙ্গে ছিলেন; রামোস ২০১০ বিশ্বকাপের সেরা ড্রিবলার ছিলেন (৩১টি সফল ড্রিবল)। অন্যদিকে পোরো-কুকুরেয়া জুটি বিশ্বকাপের আগে সমালোচিত হলেও পরে দারুণভাবে জ্বলে উঠেছেন এবং গোল-অ্যাসিস্টে এই বিশ্বকাপের ত্রাস হয়ে উঠেছেন।

সেন্টারব্যাকে কার্লোস পুয়োল (৩২) ও জেরার্ড পিকে (২৩) বনাম এমেরিক লাপোর্ত (৩২) ও পাউ কুবারসি (১৯)। ২০১০ সালে পুয়োল-পিকে জুটি হজম করেছিল দুই গোল; এবার লাপোর্ত-কুবারসি জুটি হজম করেছে মাত্র এক গোল। কুবারসি ১৯ বছর বয়সে ফরাসি আক্রমণভাগকে যেভাবে রুখে দিয়েছেন, তাতে তাঁকে কিছুটা এগিয়ে রাখা যায়।

ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডে সার্জিও বুসকেটস (২২) ও জাবি আলোনসো (২৮) বনাম রদ্রি (৩০) ও ফাবিয়ান রুইজ (৩০)। বুসকেটস-আলোনসো জুটি তিকিতাকায় মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণ করতেন। রদ্রি-রুইজ জুটি ততটা উচ্চতায় না থাকলেও নিজেদের কাজ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে করছেন।

অ্যাটাকিং মিডফিল্ডে জাভি (৩০) ও ইনিয়েস্তা (২৬) বনাম দানি ওলমো (২৮) ও আলেক্স বায়েনা (২৫)। জাভি-ইনিয়েস্তা জুটি অনন্য—জাভির পাস থেকে পুয়োলের গোল আর ইনিয়েস্তার ফাইনালে গোল স্পেনকে শিরোপা এনে দিয়েছিল। ওলমো-বায়েনা জুটির সামনে সেই পুনরাবৃত্তির সুযোগ রয়েছে।

আক্রমণভাগে ডেভিড ভিয়া (২৮) ও পেদ্রো (২৩) বনাম লামিনে ইয়ামাল (১৯) ও মিকেল ওয়ারসাবাল (২৯)। ভিয়া ছিলেন অসাধারণ ফর্মে, পেদ্রো তাঁর সহায়ক। বর্তমানে ইয়ামাল নতুন মুখ হলেও মাত্র একটি গোল পেয়েছেন, অন্যদিকে ওয়ারসাবাল প্রতি দুই ম্যাচে একটি গোলের গড় রাখছেন। ফাইনালে তাঁদের কাছ থেকে ভালো কিছু পাওয়ার আশা সমর্থকদের।

সবমিলিয়ে, দুই দলেরই নিজস্ব শক্তি ও দুর্বলতা রয়েছে। ২০১০ সালের দল অভিজ্ঞতায় এগিয়ে, তবে বর্তমান দল বয়স ও ফর্মের দিক থেকে বেশ শক্তিশালী।