নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামের সবুজ গালিচায় রোববার বিকেলে লিখিত হবে ফুটবলের আরেক মহাকাব্য। বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে লড়াই করবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও ইউরোপীয় জায়ান্ট স্পেন। এই মহারণের প্রাক্কালে স্পেনের সাবেক কোচ ভিসেন্তে দেল বস্ক তাঁর দেশের বর্তমান দলকে সতর্ক করে দিয়েছেন আর্জেন্টিনার বিশেষ দুই বৈশিষ্ট্য নিয়ে।

স্প্যানিশ দৈনিক এল পাইসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দেল বস্ক বলেন, ‘আমার বিশ্বাস, ফাইনালে স্পেনই জিতবে। কিন্তু আর্জেন্টিনার অনিশ্চিত খেলার ধরণ ও তাদের বিপুল অভিজ্ঞতা স্পেনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। আমরা অনেকেই আর্জেন্টাইন সতীর্থদের সঙ্গে খেলেছি, তাই জানি তারা কতটা কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বী এবং লড়াকু মানসিকতার অধিকারী।’ তিনি আরও যোগ করেন, ফুটবলের সৌন্দর্যই হলো এর অনিশ্চয়তা—এই ম্যাচের ফলাফল কেউ আগাম বলতে পারে না।

২০০৮ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে স্পেনকে টানা তিনটি বড় শিরোপা জিতিয়ে দেওয়া দেল বস্ক আর্জেন্টিনার ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালের প্রত্যাবর্তনের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। সেমিফাইনালে এক গোলে পিছিয়ে পড়েও আর্জেন্টিনা ম্যাচ ঘুরিয়ে দেয়, যা দলের মানসিক শক্তির প্রমাণ বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর মতে, এই অদম্য জেদ ও লড়াই করার প্রবণতা আর্জেন্টিনাকে ভয়ংকর প্রতিপক্ষে পরিণত করেছে।

দেল বস্ক বিশেষ করে আর্জেন্টিনার দুই ‘বিপজ্জনক’ চরিত্রের কথা উল্লেখ করেন—দলের অনিশ্চিত খেলার ধরন ও তাদের অভিজ্ঞতার গভীরতা। তিনি বলেন, ‘তারা খুব চতুর দল। জানে কখন কীভাবে খেলতে হবে এবং কী করতে হবে।’ প্রাক্তন কোচ আরও ইঙ্গিত দেন যে, স্পেনের তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য আর্জেন্টিনার এই গুণগুলো মোকাবিলা করা কঠিন হবে।

প্রসঙ্গত, সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার মাঠে ‘ফকল্যান্ডস ব্যানার’ ওঠার ঘটনাও আলোচনায় এসেছে। দেল বস্ক অবশ্য সেই প্রসঙ্গে সরাসরি কিছু না বললেও, আবেগ ও জাতীয়তাবাদ ম্যাচের গতিপথে প্রভাব ফেলতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘আমি মনে করি স্পেনই জিতবে, কিন্তু তাদের সতর্ক থাকতে হবে।’

এই মন্তব্য স্পেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার ফাইনালের উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। উভয় দলই শিরোপা জিততে মরিয়া। আর্জেন্টিনার তারকা লিওনেল মেসি এবং স্পেনের তরুণ প্রতিভা লামিনে ইয়ামালের লড়াইয়েও নজর থাকবে ফুটবলপ্রেমীদের। দেল বস্কের বিশ্লেষণ ইঙ্গিত করে যে, কৌশল ও অভিজ্ঞতার লড়াইয়ে শেষ হাসি কে হাসবে, তা দেখার অপেক্ষায় পুরো ফুটবল বিশ্ব।