বিশ্বকাপ ফুটবলে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বারবার। ইংল্যান্ডের কোচ টমাস টুখেল তো সরাসরি জানিয়ে দিয়েছেন, এই ম্যাচের কোনো দরকার তিনি দেখেন না। তার মতে, সেমিফাইনালে হেরে যাওয়ার পর আরেকটি ম্যাচ খেলার চেয়ে বাড়ি ফিরে যাওয়াই ভালো। অন্যদিকে, এই ম্যাচের সমর্থকরা বলছেন, তৃতীয় স্থান নির্ধারণের জন্য এটি অপরিহার্য।
উল্লেখ্য, বিশ্বকাপের সূচনা হয়েছিল অলিম্পিককে মডেল ধরে। অলিম্পিকে তৃতীয় স্থানের গুরুত্ব অনেক, কারণ সেখানে পদক পাওয়া যায়। ১৯৩০ সালে প্রথম বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ খেলার নিয়ম থাকলেও, তা অনুষ্ঠিত হয়নি। সেমিফাইনালে হারা যুক্তরাষ্ট্র ও যুগোস্লাভিয়া সে ম্যাচে আগ্রহ দেখায়নি। গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় যুক্তরাষ্ট্রকে তৃতীয় ঘোষণা করা হয়। ১৯৩৪ বিশ্বকাপ থেকে নিয়মিতভাবে এই ম্যাচ শুরু হয়, যেখানে জার্মানি অস্ট্রিয়াকে হারিয়ে তৃতীয় হয়। ১৯৫০ বিশ্বকাপে অবশ্য কোনো ফাইনাল বা তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ ছিল না, বরং রাউন্ড রবিন লিগের মাধ্যমে চ্যাম্পিয়ন নির্ধারণ করা হয়।
বড় দলগুলোর কাছে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়। ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, জার্মানি বা ফ্রান্সের মতো বিশ্বকাপজয়ী দেশগুলো শিরোপা জয়ের স্বপ্ন নিয়েই বিশ্বকাপে আসে, তাই তাদের কাছে এই ম্যাচ অর্থহীন বলে মনে হয়। তবে ছোট দলগুলোর জন্য এটি ভিন্ন কথা। যেসব দল প্রথমবারের মতো সেমিফাইনালে পৌঁছায়, তাদের কাছে তৃতীয় হওয়া অনেক বড় অর্জন। ১৯৬৬ বিশ্বকাপে পর্তুগাল, ১৯৯৮ বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়া, ২০০২ বিশ্বকাপে তুরস্ক এবং ২০১৮ বিশ্বকাপে বেলজিয়ামের মতো দলগুলো তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের মাধ্যমেই নিজেদের স্মরণীয় করে রাখতে পেরেছে।
বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামিতে আজ রাতে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড। সেমিফাইনালে হেরে যাওয়ার পর দুঃখ ভারাক্রান্ত মন নিয়েই তারা মাঠে নামছে বলে জানা গেছে। বিশ্বকাপ ছাড়া ইউরো, চ্যাম্পিয়নস লিগের মতো বড় টুর্নামেন্টগুলোতে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ হয় না। ফলে এই ম্যাচের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে গত কয়েক বিশ্বকাপ ধরেই। তবে ফিফার হাতে এই ম্যাচ ভবিষ্যতে থাকবে কি না, তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।

