বুধবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত এক শোকপ্রস্তাবের মাধ্যমে কাতারের সাবেক শাসক শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। গত ১২ জুলাই তিনি ইন্তেকাল করেন। তাকেই আধুনিক কাতারের রূপকার হিসেবে বিশ্বব্যাপী অভিহিত করা হয়। তার দূরদর্শী নেতৃত্বে কাতার একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত হয়।
সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম এই প্রস্তাব উত্থাপন করেন। তিনি বক্তব্যে বলেন, শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি ছিলেন সমসাময়িক বিশ্বের অত্যন্ত প্রজ্ঞাবান ও দূরদর্শী নেতা। তার শাসনামলে কাতার দ্রুত উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হয়। পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশের সঙ্গে কাতারের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদারকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। বাংলাদেশি প্রবাসী কর্মীদের কর্মসংস্থান, দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও পারস্পরিক উন্নয়নে তার অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে উল্লেখ করেন চিফ হুইপ।
প্রস্তাবের বিস্তারিত অংশে বলা হয়, জাতীয় সংসদ মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত ও চিরশান্তি কামনা করছে। শোকসন্তপ্ত রাজপরিবার, বর্তমান আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি, কাতার সরকার ও জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করা হয়। প্রস্তাবে আরও বলা হয়, আগামীকাল সারা দেশে শোক দিবস পালিত হবে এবং জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে।
একইসঙ্গে শোকপ্রস্তাবের একটি প্রত্যায়িত অনুলিপি যথাযথ মাধ্যমের মাধ্যমে কাতারের জাতীয় পরিষদ (শুরা কাউন্সিল), বাংলাদেশে নিযুক্ত কাতার দূতাবাস এবং কাতার সরকারের কাছে প্রেরণের নির্দেশ দেওয়া হয়। সবশেষে কণ্ঠভোটের মাধ্যমে প্রস্তাবটি সর্বসম্মতভাবে অনুমোদিত হয়। সংসদ সদস্যরা নীরবতা পালনের মাধ্যমে মরহুমের প্রতি সম্মান জানান। এই শোকপ্রস্তাব দুই দেশের মধ্যকার সৌহার্দ্যপূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্কের প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



