আজ বুধবার রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইডিইবি) মিলনায়তনে ‘জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং জুলাই গণহত্যার মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার এবং আমাদের দায়বদ্ধতা’ শীর্ষক এক জাতীয় সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। ১১-দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত এই সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ।
সেমিনারে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। তিনি বলেন, অতীতে আওয়ামী লীগ ‘উন্নয়নের গণতন্ত্র’ নামে যে ব্যবস্থা চালু করেছিল, বর্তমান সরকার যদি ‘ফ্যামিলি কার্ডের গণতন্ত্র’ ও ‘কৃষি কার্ডের গণতন্ত্র’-এর মাধ্যমে জনগণকে সন্তুষ্ট করার চেষ্টা করে, তবে তার পরিণতিও একই রকম হবে। এই ধরনের গণতন্ত্রের মাধ্যমে দেশের প্রকৃত পরিবর্তন আনা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিএনপির প্রসঙ্গে মামুনুল হক বলেন, ছোটবেলায় খেলাধুলায় যেসব শিশু খেলতে পারত না, তাদের ‘দুধভাত’ হিসেবে দলে রাখা হতো। একইভাবে ১১-দলীয় ঐক্যের মধ্যে বিএনপিকে ‘দুধভাত’ হিসেবে রাখা হয়েছিল। কিন্তু তারা এখন ফাউল করা শুরু করেছে। যদি এই ফাউলের কারণে লাল কার্ড দেখানো হয়, তাহলে বিএনপির ভবিষ্যৎ ভালো হবে না বলে তিনি হুঁশিয়ার করেন।
তিনি আরও বলেন, প্রতিটি স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের শেষে বিএনপির ওপর নির্ভর করে ক্ষতিগ্রস্ত হতে হয়েছে। কারণ ক্ষমতায় গিয়ে তারা সংস্কারের প্রতিশ্রুতি রাখেনি। এবার আর বিএনপির ওপর নির্ভর না করে বিকল্প পথ বেছে নেওয়া হচ্ছে। মামুনুল হক বলেন, যদি বিএনপি জুলাই বিপ্লবের চেতনা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়, তাহলে এই ইস্পাতকঠিন ঐক্য আরও দৃঢ় হবে এবং একসময় বিএনপির বিরুদ্ধে গণবিস্ফোরণে পরিণত হবে।
সেমিনারে জুলাই জাদুঘর দ্রুত চালুর দাবি জানিয়ে মামুনুল হক বলেন, এই জুলাই মাসের মধ্যে জুলাই জাদুঘর খুলে দিতে হবে। নিয়মতান্ত্রিকভাবে যদি তা না করা হয়, তাহলে এ নিয়ে বড় ধরনের ক্যাঁচাল হবে। তিনি জুলাই বিপ্লবের শক্তির কথাও উল্লেখ করে বলেন, যে বিপ্লব জন্মের সময়ই সময়ের সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করতে পারে, সেই জুলাই বিপ্লবকে বিএনপি, বিএনপি-আওয়ামী লীগ এবং ভারত মিলেও আটকে রাখতে পারবে না।
এনসিপির সদস্যসচিব ও বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য আখতার হোসেন তাঁর বক্তব্যে অভিযোগ করেন, রাষ্ট্র সংস্কারের প্রশ্নে বিএনপি ধীরে ধীরে পিছিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, চব্বিশের অভ্যুত্থানের আগেও রাষ্ট্র সংস্কারে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য ছিল। বিএনপি তখন ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু এখন তারা কাঙ্ক্ষিত সংস্কারের বিরোধিতা করছে। আখতার হোসেন আরও বলেন, তারা মুখে সংস্কারের কথা বললেও কাজে তার পক্ষে ছিল না। গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে অবস্থান নিলেও মন থেকে গণভোটের পক্ষে ছিল না।
জুলাই অভ্যুত্থান প্রসঙ্গে আখতার হোসেন বলেন, জুলাই না হলে আমরা এখনো ফ্যাসিবাদের জাঁতাকলে পিষ্ট হতাম। কিন্তু এখন নানা ছলচাতুরীর মাধ্যমে কেউ চিত্রনায়িকা সেজে, কেউ মডেল সেজে, কেউ সিনিয়র সাংবাদিক সেজে জুলাইয়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে। তারা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার কথা বললেও বাস্তবে জুলাইয়ের চেতনাকে দুর্বল করে বাংলাদেশকে পেছনের দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করছে।
সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধান।




