জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সংক্রান্ত মামলার বিচারকাজ চলাকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ এক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে। রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম শুনানিতে অবহিত করেন যে, বিচারিক প্রক্রিয়ায় মৃত্যুদণ্ডের বিধান বহাল থাকায় জাতিসংঘ তাদের তদন্ত সংশ্লিষ্ট প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য ও সাক্ষ্য হস্তান্তর করেনি।

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত দেশজুড়ে সংঘঠিত ঘটনাবলি নিয়ে একটি ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ওই প্রতিবেদন তৈরির জন্য তারা ঢাকা ও চট্টগ্রাম-সহ মোট আটটি নগরে অনুসন্ধান সম্পাদন করে এবং ২৩০টিরও অধিক ব্যক্তির সাক্ষাৎকার গ্রহণ করে। রিপোর্টে তৎকালীন সময়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের শীর্ষপর্যায়ের নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ উত্থাপন করা হয়।

তবে আদালতে এ তথ্য উঠে আসে যে, উক্ত অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্যগুলো পূর্ণরূপে আদালতে উপস্থাপনের পথে একটি আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের বর্তমান বিধান অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ডের বিধান বহাল থাকায় জাতিসংঘ প্রত্যক্ষদর্শীদের পরিচিতি ও তাদের দেওয়া জবানবন্দি সরবরাহ করতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। প্রসিকিউটর স্পষ্টতই ইঙ্গিত প্রদান করেন যে, এই আইনি ব্যবস্থার কারণেই আন্তর্জাতিক সংস্থাটি সহায়তা করতে অপারগতা প্রকাশ করেছে।