সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সাবিকুন্নাহারের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন গতকাল সোমবার এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘আগের সরকারের ১৭ বছরে স্বাস্থ্য খাত এতটাই অবহেলিত ছিল যে সংকট নিয়ে এক ঘণ্টা বললেও শেষ হবে না।’ সাবিকুন্নাহার মুক্তাগাছা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নানা সমস্যা তুলে ধরলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী পুরো খাতের চিত্র তুলে ধরেন।

সরকারি হাসপাতালে অনুমোদিত চিকিৎসকের ৪১ হাজার ৮০৬ পদের মধ্যে বর্তমানে শূন্য রয়েছে ৯ হাজার ৪০৭টি। নার্সের অনুমোদিত ৪৯ হাজার ৯৮৭ পদের মধ্যে শূন্য ৪ হাজার ৫৭৭টি। আর অনুমোদিত স্বাস্থ্যকর্মীর ৬৫ হাজার ২৩০ পদের মধ্যে শূন্য ১৮ হাজার ৯৪৭টি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও জানান, পূর্ববর্তী সরকার আমলে অপরিকল্পিতভাবে যন্ত্রপাতি আনা হয়। খুলনা ও ফরিদপুরে ১৮ কোটি টাকা করে দুটি রেডিওথেরাপি মেশিন এখনও স্থাপন করা হয়নি। সুরক্ষা ব্যবস্থাপনার অভাবে সেগুলো প্যাকেটবন্দী অবস্থায় পড়ে আছে। একইভাবে এক্স-রে ও ল্যাবরেটরির মেশিন এলেও প্রয়োজনীয় টেকনিশিয়ানের সংস্থান করা হয়নি। মন্ত্রী বলেন, ‘এই অব্যবস্থাপনা আমাদের উপর এসে পড়েছে, আমরা নির্বাচিত সরকার।’

এ ছাড়া কুমিল্লা-৯ আসনের মো. আবুল কালামের প্রশ্নের জবাবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মানসিক স্বাস্থ্যের চিত্র তুলে ধরেন। বাংলাদেশে প্রাপ্তবয়স্কদের ১৬ দশমিক ৮ শতাংশ ও শিশু-কিশোরদের ১২ দশমিক ৬ শতাংশ কোনো না কোনো মানসিক সমস্যায় ভুগছে। কিন্তু আক্রান্তদের ৯২ শতাংশের বেশি চিকিৎসাসেবা নেয় না। দেশে প্রতি ১ লাখ মানুষের জন্য মাত্র ১ দশমিক ১৭ জন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ থাকায় সেবার অপ্রতুলতা রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের মু. মিজানুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে সরকার তরুণদের মানসিক চাপ ও হতাশা মোকাবিলায় কাজ করছে বলে আশ্বাস দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, পরিসংখ্যান ব্যুরো ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী প্রতি বছর ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৪০০ জন আত্মহত্যা করেন, যাদের উল্লেখযোগ্য অংশ তরুণ ও কিশোর। এই প্রবণতা রোধে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।