জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের আসনগুলোতে সরকারি নারী সংসদ সদস্যদের বাড়তি দায়িত্ব দেওয়া নিয়ে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। সোমবার সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য জীবা আমিনা খান একটি সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে জানান, তিনি তার অতিরিক্ত দায়িত্বের অংশ হিসেবে পীরগঞ্জ ও মিঠাপুকুর সফর করে এসেছেন। তাঁর এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন তোলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন।
আখতার হোসেন, যিনি পীরগাছা উপজেলার নির্বাচিত সংসদ সদস্য, জানান যে জীবা আমিনার ওই সফরের পর এলাকায় বিএনপি নেতাকর্মীরা মন্তব্য করেছেন যে ওই আসনের প্রকৃত প্রতিনিধি হচ্ছেন সংরক্ষিত আসনের এমপি, সাধারণ নির্বাচনে নির্বাচিত এমপি নন। তাঁরা বলছেন, সেখানে যেকোনো কাজই এই সংরক্ষিত এমপির মাধ্যমেই সম্পন্ন করতে হবে।
এর আগে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সংসদে জানিয়েছিলেন যে কোনো সংসদ সদস্যকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। কিন্তু জীবা আমিনা খানের বক্তব্যে সেই বক্তব্যের বিপরীত চিত্র ফুটে উঠেছে বলে মন্তব্য করেন আখতার হোসেন। তিনি প্রশ্ন রাখেন, আসলে সত্য কী—অতিরিক্ত দায়িত্ব রয়েছে নাকি নেই? যদি থাকে, তবে তার পরিধি কতটুকু এবং কীভাবে তা পালন করতে হবে? এছাড়া এই অতিরিক্ত দায়িত্বের সাংবিধানিক ভিত্তি কী?
বিরোধী দলের আসনগুলোতেই শুধু এ ধরনের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে এনসিপি নেতা বলেন, এতে আশঙ্কা জাগছে যে বিএনপি কি একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েম করতে চাইছে। তিনি বলেন, 'বিষয়টি আমাদের কাছে অনানুষ্ঠানিক ছিল, কিন্তু এখন সংসদে আনুষ্ঠানিকভাবে এসেছে। আমরা সরকারের কাছ থেকে এর ব্যাখ্যা চাই।'
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ স্পষ্টভাবে জানান, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যদের জন্য আলাদা কোনো নির্বাচনী এলাকা নির্ধারিত নেই। ফলে তাঁরা দেশের যেকোনো প্রান্তে তাদের দায়িত্ব পালন করতে পারেন। তিনি বলেন, সংসদ সদস্য হিসেবে তাঁরা বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থা থেকে বরাদ্দ পান, যা যেকোনো স্থানে ব্যবহারযোগ্য। তবে কোনো সংরক্ষিত আসনের সদস্য যদি নিজে নিজেকে কোনো বিশেষ এলাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ করেন, তবে সেটি তার নিজস্ব সিদ্ধান্ত।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যরা অন্যান্য সংসদ সদস্যদের মতোই পূর্ণাঙ্গ এমপি। তাই তাঁদের ওপর অতিরিক্ত দায়িত্ব আরোপের বিষয়টি বর্তমান সংবিধানের কাঠামোর মধ্যেই পড়ে। তবে আখতার হোসেনের উত্থাপিত প্রশ্নের জবাবে তিনি সরাসরি কোনো মন্তব্য না করে বরং সংরক্ষিত আসনের এমপিদের সাধারণ ক্ষমতা নিয়ে ব্যাখ্যা দেন।
এ নিয়ে সংসদে বিরোধী দল ও সরকারের মধ্যে মতানৈক্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। আখতার হোসেনের দাবি, বিরোধী দলের এলাকায় সরকারি এমপিদের এই অতিরিক্ত দায়িত্ব একটি রাজনৈতিক কৌশল হতে পারে। কিন্তু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এটি সংসদীয় রীতির মধ্যেই পড়ে।




