যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের পরিবারে নতুন সদস্য এসেছে। তাঁর স্ত্রী ও মার্কিন সেকেন্ড লেডি উষা ভ্যান্স চতুর্থ সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। গতকাল রোববার ভাইস প্রেসিডেন্ট নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এই ঘটনা ঐতিহাসিক—কারণ দীর্ঘ ১৫০ বছরের বেশি সময়ের মধ্যে এটিই প্রথমবার যখন কোনো দায়িত্ব পালনরত সেকেন্ড লেডি সন্তান জন্ম দিলেন। তার আগে সর্বশেষ ১৮৭০ সালে তৎকালীন ভাইস প্রেসিডেন্ট স্কাইলার কোলফ্যাক্সের স্ত্রী এলন মারিয়া কোলফ্যাক্স সন্তানের মা হয়েছিলেন। সেই সন্তানের নাম ছিল স্কাইলার কোলফ্যাক্স তৃতীয়, যিনি পরে ইন্ডিয়ানার সাউথ বেন্ডের মেয়র নির্বাচিত হন।
নতুন অতিথির নাম রাখা হয়েছে অ্যালেক নীল ভ্যান্স। ভ্যান্স দম্পতির আগের তিন সন্তানের নাম ইউয়ান, বিবেক ও মিরাবেল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইস প্রেসিডেন্ট জানান, ‘উষা ও সদ্যোজাত শিশু—দুজনই সম্পূর্ণ সুস্থ। ছোট ভাইকে পেয়ে আমাদের সন্তানেরা অত্যন্ত আনন্দিত।’ তিনি ওয়াল্টার রিড ন্যাশনাল মিলিটারি মেডিক্যাল সেন্টার এবং হোয়াইট হাউস মেডিক্যাল ইউনিটের চিকিৎসক ও কর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
পরিবারের নতুন সদস্যের আগমনের পর ভ্যান্স পরিবার এখন গ্রামীণ পরিবেশে বেশি সময় কাটানোর পরিকল্পনা করছে। উত্তর ভার্জিনিয়ার মিডলবার্গের একটি অভিজাত এলাকায় কয়েক মিলিয়ন ডলার মূল্যের একটি সুবিশাল সম্পত্তির অংশ ভাড়া নিয়েছেন তাঁরা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ওয়াশিংটন ডিসির কঠোর নজরদারি থেকে দূরে থেকে সেকেন্ড লেডি ও সন্তানদের স্বাভাবিক জীবনের অনুভূতি দেওয়ার জন্যই এই ব্যবস্থা। ভাইস প্রেসিডেন্ট মাঝেমধ্যে সেখানে থাকবেন, তবে তাঁর সরকারি বাসভবন ‘নেভাল অবজারভেটরি’ও ব্যবহার করবেন।
সম্প্রতি এবিসি নিউজের এক সাক্ষাৎকারে উষা ভ্যান্স জনজীবনের চাপ ও সন্তান প্রতিপালনের অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আমরা যা-ই করি, তা-ই মানুষের নজরে চলে আসে।’ তাঁর মতে, বাচ্চারা দুষ্টুমি করলে বা অসুস্থ হলেও ‘মানুষ তা দেখে ফেলে’। ৪০ বছর বয়সী উষা জানান, তাঁরা সন্তানদের এমন পরিস্থিতিতে না ফেলার চেষ্টা করেন যাতে ভবিষ্যতে তারা বলতে পারে, ‘ওহ, তোমরা আমাকে সবার সামনে বিব্রত করেছিলে।’ তাই তাদের বেশিরভাগ বিষয় গোপন রাখার চেষ্টা করা হয়। তবে যখন তারা জনসমক্ষে আসে, তখন তাদের স্বাভাবিকভাবে থাকতে দেওয়া হয়।
স্বামী জেডি ভ্যান্স প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার পর উষা তাঁর উচ্চপদস্থ আইনজীবীর চাকরি ছেড়ে দেন। তিনি প্রায়ই ভাইস প্রেসিডেন্টের পাশে উপস্থিত হন এবং নিজের জন্য একটি ছোট সহায়ক দল গঠন করেছেন। শিশুদের সাক্ষরতা বৃদ্ধির কাজে মনোনিবেশ করে তিনি গত বছর সামার রিডিং চ্যালেঞ্জ এবং চলতি বছর একটি পডকাস্ট চালু করেন।




