রাঙামাটির বাংলাদেশ সুইডেন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে (বিএসপিআই) শুক্রবার রাতে শিক্ষার্থীদের দুই গ্রুপের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে জড়িয়ে পড়ে অন্তত ১২ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষের বরাতে জানা গেছে, রাত সাড়ে ১০টার দিকে ক্যাম্পাসের ছাত্রাবাসে এ ঘটনা ঘটে। মূলত ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেওয়াকে ঘিরে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটির আবাসিক শিক্ষার্থীরা প্রধানত দুটি ফোরামে বিভক্ত। একটি ফোরামে রয়েছেন কক্সবাজার জেলার শিক্ষার্থীরা, অন্যটিতে বাকি জেলার শিক্ষার্থীরা। শুক্রবার রাতে যে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে তারা মূলত এই দুই ফোরামেরই সদস্য। অবশ্য ঠিক কী কারণে সংঘর্ষ হলো এবং সেই ফেসবুক স্ট্যাটাসে কী ছিল, তাৎক্ষণিকভাবে তা স্পষ্ট করেনি কর্তৃপক্ষ।

আহত ১২ জনের মধ্যে পাঁচজন কক্সবাজার জেলার — হোসেন নুর আবিদ, মোস্তফা ওবায়দুল, তাকবির হাবিব, আরাফাত আবির ও মো. ইমরান। বাকি সাতজন বিভিন্ন জেলার — আবদুল্লাহ আল তৌসিফ, আল আমিন, আদিত্য রায়, মো. হাসান খন্দকার, মেহেরাব হোছাইন, মো. মোস্তাকিম ও তারেক হোছাইন। ইনস্টিটিউটের বিভিন্ন বিভাগে পড়ুয়া এই শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের পরপরই উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ঘটনার পরপরই কাপ্তাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মাহমুদুল হাসানের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ওসি জানান, খবর পেয়েই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। বর্তমানে ক্যাম্পাসে শান্তি বিরাজ করছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় থানায় এখন পর্যন্ত কেউ কোনো লিখিত অভিযোগ দেয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ইনস্টিটিউটের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, সংঘর্ষের ঘটনা তদন্তে অটোমোবাইল বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী রহমত উল্লাহকে আহ্বায়ক করে সাত সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। হোস্টেল সুপার আবদুল মান্নানও জানান, ফেসবুক স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পরই এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।