নীলফামারীর ডিমলা থানা ভবনে ফের জরাজীর্ণতার প্রমাণ মিলল। শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে থানার ডিউটি অফিসারের কক্ষের ছাদের পলেস্তারা হঠাৎ খসে পড়ে গুরুতর আহত হন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. মোসলেম উদ্দিন। এ ঘটনায় থানার সরকারি কাজে ব্যবহৃত একটি ডেস্কটপ কম্পিউটারও ভেঙে অকেজো হয়ে যায়। ওই সময় কক্ষে দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তাসহ আরও তিনজন সেবাগ্রহীতা উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে। আহত অবস্থায় মোসলেম উদ্দিনকে দ্রুত ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়, যেখানে তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে।
দুর্ঘটনার সময় ডিউটি অফিসারের দায়িত্ব পালন করছিলেন মোসলেম উদ্দিন। তিনি বলেন, হঠাৎ করেই ছাদের পলেস্তারা খুলে এসে তাঁর কাঁধে আঘাত করে। পাশেই রাখা কম্পিউটারটিও একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দোতলা ডিমলা থানা ভবনটির বিভিন্ন অংশ বহুদিন ধরেই সংস্কারের অভাবে পড়ে আছে। বর্ষায় ভবনের নানা স্থান দিয়ে পানি চুইয়ে পড়ে, ছাদ ও দেয়ালের পলেস্তারা খুলে গিয়ে রড বেরিয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও পলেস্তারা ঝুলে থাকায় যেকোনো মুহূর্তে দুর্ঘটনার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ভবনের দেওয়ালগুলো স্যাঁতসেঁতে থাকায় পরিবেশও স্বাস্থ্যকর নয়। এই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই কর্মরত আছেন মোট ৬২ জন পুলিশ সদস্য।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শওকত আলী সরকার জানান, বিষয়টি ইতিমধ্যে পুলিশ সুপারকে অবহিত করা হয়েছে এবং তিনি ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন। তিনি আরও বলেন, তাঁর পূর্বসূরিরা নতুন থানা ভবন নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় চাহিদা দাখিল করেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে অচিরেই নতুন ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়ে যাবে।
এদিকে, থানা ভবনের এই দুরবস্থার কারণে স্থানীয় জনগণের মধ্যে দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে। পুলিশের নিজস্ব কার্যক্রম পরিচালনায়ও জরাজীর্ণ ভবনটি প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে বলেও সংশ্লিষ্ট মহলে মত প্রকাশ করা হচ্ছে।




