কিশোরগঞ্জ-ভৈরব আঞ্চলিক মহাসড়কের খিলপাড়া অংশে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে দুই দশক ধরে জমে আছে শহরের বর্জ্য। সদর উপজেলার ওই স্থানে বাজার, বাসাবাড়ি, হাসপাতাল ও ক্লিনিকের ময়লা-আবর্জনার পাশাপাশি কটিয়াদী, পাকুন্দিয়া ও হোসেনপুর উপজেলার কিছু অংশের বর্জ্যও ফেলা হয়। উন্মুক্ত অবস্থায় থাকা এসব আবর্জনা থেকে ছড়ানো দুর্গন্ধে স্থানীয়রা চরম ভোগান্তির শিকার। প্রতিদিন ঢাকা, ময়মনসিংহ, সিলেট ও ভৈরবের দিকে চলাচলকারী হাজারো যানবাহন ও পথচারীর জন্য এটি নিয়মিত দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্ষার পানিতে পচে যাওয়া বর্জ্য সড়কে ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।

এই বর্জ্যস্তূপ অপসারণের দাবিতে এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করছেন। মানববন্ধনসহ বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচি পালনের পাশাপাশি প্রথম আলোসহ অন্যান্য গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। তিন থেকে চার বছর আগে প্রায় দশ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্প তৈরি করা হলেও লোকবল সংকটের কারণে সেটি এখনও চালু করা সম্ভব হয়নি।

আগামীকাল রোববার কিশোরগঞ্জে সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জাতীয় মৎস্য পক্ষ উপলক্ষে পাকুন্দিয়ায় মাছের পোনা অবমুক্তকরণ ও কটিয়াদীতে কার্প হ্যাচারি কমপ্লেক্স পরিদর্শন করবেন তিনি। পরবর্তীতে ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানের উন্নয়ন কার্যক্রমের উদ্বোধন এবং জেলা শহরের পুরোনো স্টেডিয়াম মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। এই সফরের প্রস্তুতি হিসেবে গত এক সপ্তাহ ধরে ওই বর্জ্যস্তূপের উপরিভাগের কিছু অংশ সরিয়ে বালির স্তর দিয়ে ঢেকে ফেলা হচ্ছে। কটিয়াদী বাসস্ট্যান্ড এলাকায়ও একইভাবে ময়লা ঢেকে দেওয়ার কাজ চলছে।

গত বৃহস্পতিবার খিলপাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, সড়কের পাশের সেই স্তূপ এখন অনেকটাই আড়াল। উপরের কিছু আবর্জনা অপসারণ করে নিচের বর্জ্য রেখে বালুচাপা দেওয়ায় এলাকাটি দেখতে পরিচ্ছন্ন লাগছে। আগে পথচারীদের নাক চেপে চলাচল করতে হতো; এখন স্বাচ্ছন্দ্যে যাতায়াত সম্ভব। তবে সড়ক থেকে দূরে এখনও ময়লার উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি মূলত প্রধানমন্ত্রীর নজর এড়াতে তড়িঘড়ি নেওয়া সাময়িক পদক্ষেপ; তাঁর চলে যাওয়ার পর পুরনো অবস্থায় ফিরে আসার আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মাহমুদুল হাসান জানান, এখান দিয়ে চলাচলের সময় দুর্গন্ধে টেকা দায় হয়ে যেত। বৃষ্টির দিনে কষ্টের সীমা থাকত না। পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার লিখিত ও মৌখিক আবেদন জানালেও কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এখন প্রধানমন্ত্রীর আগমনের কারণে দ্রুত বালির আবরণ দিয়ে ময়লা ঢেকে দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি শুনেছেন। তাঁর মতে, এটি অস্থায়ী ব্যবস্থা; স্থায়ীভাবে বর্জ্য অপসারণের দাবিই তারা জানাচ্ছেন।

কিশোরগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার অধিদপ্তরের উপপরিচালক জেবুন নাহার শাম্মী প্রথম আলোকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে শহর ও আশপাশের পরিবেশ সার্বিকভাবে পরিষ্কার রাখার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। মাইকিংয়ের মাধ্যমে জনসাধারণকে কয়েক দিনের জন্য উন্মুক্ত স্থানে ময়লা না ফেলার অনুরোধ জানানো হচ্ছে। এর ধারাবাহিকতায় সড়কের পাশের ওই স্থানটি আপাতত বালির আবরণ দিয়ে ঢেকে রাখা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, স্থায়ীভাবে বর্জ্য নিরসনের একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে, যা কয়েক দিনের মধ্যেই চালু হতে পারে।