বর্ষার সময়টিতে সড়কে চলাচলের সময় বাইক ও স্কুটারের বিভিন্ন অংশে পানি ও কাদা জমে সহজেই ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই মৌসুমে অতিরিক্ত পরিচর্যা না নিলে বাহনের কার্যক্ষমতা হ্রাস পায় ও দ্রুত মেরামতের প্রয়োজন হয়। নিচের কয়েকটি সহজ নির্দেশনা মেনে চললে যানবাহনটি দীর্ঘদিন ভালো রাখা সম্ভব।
প্রথমেই ফুয়েল ট্যাংকের প্রতি নজর দিতে হবে। ট্যাংক পুরোপুরি খালি রাখলে ভেতরে আর্দ্রতা জমে কনডেনসেশন হয়, যা ইঞ্জিনের জ্বালানি ব্যবস্থার জন্য ক্ষতিকর। তাই বর্ষাকালে অন্তত অর্ধেকের বেশি ভর্তি রেখে এই ঝুঁকি এড়ানো যায়।
টায়ারের ট্রেড ও বাতাসের চাপ নিয়মিত পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়। ভেজা পৃষ্ঠে গ্রিপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, অন্যথায় স্কিডিংয়ের সম্ভাবনা থাকে। সপ্তাহে অন্তত দুবার চাপ মেপে নেওয়া এবং ট্রেডের গভীরতা যাচাই করা নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করে।
বাইকের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে মাডগার্ড ব্যবহার কার্যকর ভূমিকা পালন করে। এটি কাদা ছিটানোর পরিমাণ কমিয়ে ফ্রেম, ইঞ্জিন ও চালককে পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে, যার ফলে ধাতব অংশে মরিচা পড়ার ঝুঁকি হ্রাস পায়।
ব্রেকিং সিস্টেমের কার্যকারিতা অটুট রাখতে পানি ও কাদার প্রভাব কমানো জরুরি। ব্রেক প্যাড ও ডিস্কে অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে দেরি না করে সার্ভিসিং করানো উচিত। পানি ব্রেকের গ্রিপ কমিয়ে দেয় এবং কাদা জমে ফেইলিওরের কারণ হতে পারে।
চেইনের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ বাইকের মসৃণ চলাচলে ভূমিকা রাখে। বৃষ্টির পানি চেইনের লুব্রিকেশন নষ্ট করে দ্রুত মরিচা ধরায়। তাই প্রতিবার রাইড শেষে চেইন পরিষ্কার করে বিশেষ লুব্রিক্যান্ট ব্যবহার করলে এর স্থায়িত্ব বেড়ে যায় এবং গিয়ার পরিবর্তন সহজ হয়।
যানবাহন পরিষ্কার রাখা অত্যন্ত জরুরি। রাস্তা থেকে ফিরে পানি দিয়ে বাইক ধুয়ে নরম কাপড় দিয়ে মুছে ফেলা উচিত। এই অভ্যাস কাদা ও ধুলা জমতে বাধা দেয় এবং মরিচা প্রতিরোধে সহায়ক।
সর্বশেষে ইঞ্জিন ও বৈদ্যুতিক অংশের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে মানসম্মত ওয়াটারপ্রুফ কভার ব্যবহার করা প্রয়োজন। পানি যাতে ব্যাটারি, ইঞ্জিন ও বৈদ্যুতিক সংযোগে প্রবেশ করতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে, কারণ শর্টসার্কিট বা জারণ ঘটলে ব্যয়বহুল মেরামতের মুখোমুখি হতে হতে পারে।
এই সাতটি বিষয়ে সচেতন থাকলে বর্ষাতেও বাইক বা স্কুটার নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য থাকে এবং রাইডিংয়ের আনন্দ অক্ষুণ্ন থাকে।




