বরিশাল নগরে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী জেড আই খান পান্নার কন্যা নাদিমা মোহাম্মদী খান আক্রান্ত হয়েছেন। শনিবার সন্ধ্যায় সদর রোডের সাবেক শিক্ষামন্ত্রী হাসেম আলী খানের বাসভবনে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় লাঠি দিয়ে পিটিয়ে তাকে গুরুতর আহত করা হয়। তিনি শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। তার পরে রোববার ভোরে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় নাদিমা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। আসামিদের তালিকায় তাঁর চাচা নজরুল ইসলাম খানসহ পাঁচজনের নাম রয়েছে। পুলিশ এজাহারভুক্ত আসামি তানজিয়া চাঁদনি (৩৫) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের পাশাপাশি নাদিমার কাছে দশ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। সেই দাবি মেনে না নেওয়ায় মাদকসেবী ও মাদক বিক্রেতাদের একটি সংঘবদ্ধ দল তাঁর ওপর হামলা চালায়। নাদিমা অভিযোগ করেন, তাঁর চাচা নজরুল ইসলাম খানের প্রশ্রয় ও উসকানিতে এই হামলা চালানো হয়েছে। উদ্দেশ্য ছিল, তাঁকে পৈতৃক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে যাতে তিনি আর বাড়িতে না আসতে পারেন, তা নিশ্চিত করা। হামলার পর তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন বলে জানান।

ঘটনার সময় নাদিমা ও তাঁর চাচাতো বোন ঢাকা থেকে বরিশালের পৈতৃক বাড়িতে আসেন। বাড়ির ভেতরে কয়েকজন যুবক আবর্জনা ফেলে রাখার পাশাপাশি মাদক সেবন ও বেচাবিক্রি করছিলেন। এর প্রতিবাদ করলে প্রথমে বাগ্বিতণ্ডা হয়। এরপর ২৫ থেকে ৩০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল তাঁদের ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে এসে তাঁকে উদ্ধার করেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে নজরুল ইসলাম খানের সঙ্গে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামুনুল ইসলাম জানান, অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কমিশনার হান্নান বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন। তিনি বলেন, আসামিদের গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) অভিযান পরিচালনা করছে এবং এ ঘটনায় কাউকে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।