মার্কিন প্রযুক্তি বাজারে গত বৃহস্পতিবার এক বিস্ময়কর বিভাজন দেখা গেছে, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-কেন্দ্রিক প্রবৃদ্ধির ফলে মাইক্রোসফটের শেয়ারমূল্য যেখানে ঊর্ধ্বমুখী, সেখানে মেটা প্ল্যাটফর্মসের শেয়ারে নেমে এসেছে বড় ধরনের ধস।
মাইক্রোসফটের সাম্প্রতিক প্রান্তিকের ফলাফল বিনিয়োগকারীদের আশা ছাড়িয়ে গেছে। প্রতিবেদনে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অ্যাজুড় ক্লাউড কম্পিউটিং এবং কোপাইলট এআই সহকারীর চাহিদা দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা সরাসরি কোম্পানিটির সার্বিক আয় ও মুনাফায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এই সুসংবাদের প্রতিক্রিয়ায় শেয়ারটি প্রায় ৯ শতাংশ লাফিয়ে উঠে।
এর সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র ধরা পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়া জায়ান্ট মেটার ক্ষেত্রে। প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদনে রাজস্ব পূর্বাভাস বাজার প্রত্যাশা পুরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। একইসঙ্গে কোম্পানিটির মুক্ত নগদ অর্থপ্রবাহে তীব্র পতন বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উৎকণ্ঠা সৃষ্টি করে, যার পরিণতিতে শেয়ারদর প্রায় ৯ শতাংশ হ্রাস পায়।
এই নাটকীয় বৈপরীত্য স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির লহর এখন আর সব প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের জন্য সমান সুফল বয়ে আনছে না। যে সংস্থাগুলো তাদের ক্লাউড ও এআই অবকাঠামো থেকে সরাসরি ও টেকসই আয়ের ধারা তৈরি করতে পারছে, তারাই বাজারে অগ্রগতি লাভ করছে।
বৃহস্পতিবার ৩০ জুলাই ২০২৬ তারিখের ট্রেডিং পরবর্তী এই মূল্যায়ন পূর্ণাঙ্গরূপে প্রযুক্তি বিনিয়োগকারীদের কৌশলে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। পূর্বে যেখানে এআইয়ের সাথে সম্পৃক্ত সকল প্রতিষ্ঠানকেই একই সমতলে দেখা হতো, সেখানে এখন ব্যক্তিগত প্রযুক্তি ও মডেলের বাণিজ্যিক সাফল্যের ভিত্তিতে সুস্পষ্ট বাছবিচার শুরু হয়েছে।




