আয়কর রিটার্ন প্রদানে নতুন এক উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), যেখানে আগাম ভর্তা করদাতাদের বিশেষ করছাড়ের সুবিধা দেওয়া হবে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই এই নিয়ম কার্যকর করা হয়েছে। নিয়মটি অনেকটাই "আগে রিটার্ন দিলে বেশি ছাড়, দেরি করলে জরিমানা" নীতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি।
বর্তমানে দেশে নিবন্ধিত কর শনাক্তকরণ নম্বরধারীর (টিআইএন) সংখ্যা প্রায় সোয়া এক কেটি। সবশেষ বছরে ৪৫ লাখের অধিক টিআইএনধারাগণ অনলাইনে নিজেদের রিটার্ন জমা দিয়েছিলেন। এবার রিটার্ন জমা দেওয়ার এই সুযোগ উন্মুক্ত থাকবে পুরো সারা বছর জুড়েই।
নতুন নিয়মের সুনির্দিষ্টতায় দেখা যাচ্ছে, অর্থবছরের প্রথম তিন মাস তথা জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে যিনি রিটার্ন জমা করবেন, তিনি মোট পরিশোধযোগ্য করের ওপরে সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ অথবা ২৫ হাজার টাকা, এই দুটির মধ্যে যেটি কম, সেই পরিমাণ অর্থ ছাড়া হিসেবে পাবেন। উদাহরণ হিসেবে, কারও যদি বাষিক কর ধার্য হয় এক লাখ টাকা, তবে প্রণোদনা বাবদ পাঁচ হাজার টাকা মওকুফ করবে এনবিআর। ফলে তার ৯৫ হাজার টাকা পরিশোধ করলেই চলবে। একইভাবে, কর ধার্য হলে ৫০ হাজার টাকা হলে, আড়াই হাজার টাকা কম দিয়ে কর পরিশোধ করা যাবে।
প্রথম প্রান্তিকের পরের তিন মাসে, অর্থাৎ অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে রিটার্ন জমা দিলে কোনো প্রণোদনা মিলবেনা। তাবে, জরি করানো হবে না; করদাতাকে তার ধার্যকৃত সম্পূর্ণ কর পরিশোধ করতে হবে।
জানুয়ারি থেকে মার্চ মাসের মধ্য জমা দিলে জরিমানার শীকার হতে হবে। এই সময়ে রিটার্ন জমা দিলে, পরিশোধযোগ্য করের ২ শতাংশ অথবা তিন হাজার টাকার মধ্যে যেটি বেশি হয়, তা অতিরিক্ত হিসেবে জরিমানা বাবদ দিতে হবে। তবে জরিমানা সর্বোচ্চ তিন হাজার টাকায় সীমাবদ্ধ থাকবে। যেমন এক লাখ টাকা কর ধার্য হলে, মোট এক লাখ দুই হাজার টাকা পরিশোধ করতে হবে।
এপ্রিল থেকে জুন, এই শেষ চতুর্থাংশে যারা রিটার্ন জমা দেবেন, তাদেরকে আরও বড় অঙ্কের জরিমানা গুনতে হতে পারে। তখন ৫ শতাংশ বা পাঁচ হাজার টাকার মধ্যে যেটি বেশি হয়, তা জরিমান হিসেবে পরিশোধ করতে হবে। এক লাখ টাকা করের ক্ষেত্রে, করদাতার এই জরিমানা পাঁচ হাজার টাকা, এবং জরিমানা পাঁচ হাজারের বেশি হবে না।
রিটার্ন জমা দেওয়ার পদ্ধতি প্রসঙ্গেও বিস্তরিত জানিয়েছে এনবিআর। অনলাইন সুবিধায়, নির্ধারিত ওয়েবসাইটে লগইন করে ধাপে ধাপে বাৎসরিক আয়, বিনিয়োগ, ব্যয়, সম্পদ ও দায়-দেনার তথ্য প্রদান করে রিটার্ন সম্পন্ন করতে হয়। ই-রিটার্ন সিস্টেমের অধীনে করদাতারা এখন ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর, ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড, মোবাইল ব্যাংকিং সেবা যেমন বিকাশ, রকেট, নগদ, অথবা অন্য কোনো মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমেও ঘরে বসেই কর পরিশোধ করতে পারবেন। একবার নির্ভুলভাবে সঠিক তথ্য দিয়ে রিটার্ন প্রস্তুত ও জমা করলে, সঙ্গে সঙ্গে রসিদ ও আয়কর সনদ সংগ্রহ করা যাবে।




