ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের দ্রুত কার্যকরী মূলধন সংগ্রহের সুবিধার্থে বিকাশ মার্চেন্টদের জন্য ডিজিটাল ন্যানো ঋণসেবা চালু করেছে ব্র্যাক ব্যাংক। এই সেবার আওতায় যোগ্য মার্চেন্টরা মাত্র এক মিনিটের মধ্যেই সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন। সোমবার রাজধানীতে ‘বাংলাদেশে অর্থায়নের সুযোগ: বেসরকারি খাতের জন্য আরও সহায়ক আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে এ তথ্য জানান ব্র্যাক ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এএমডি) সৈয়দ আবদুল মোমেন। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) ও পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশ।
প্যানেল আলোচনায় আবদুল মোমেন বলেন, গত সপ্তাহে পরীক্ষামূলকভাবে এই সেবা চালুর পর প্রথম চার দিনেই প্রায় ৪০০টি ঋণের আবেদন জমা পড়ে। এসব আবেদনের বিপরীতে মোট দুই কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, শক্তিশালী ডিজিটাল ইকোসিস্টেমের কারণে আবেদন যাচাই, অনুমোদন ও ঋণ বিতরণের পুরো প্রক্রিয়াটি এক মিনিটেরও কম সময়ে সম্পন্ন হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে পাইলট প্রকল্পের জন্য বিকাশের ৬০ হাজার মার্চেন্টকে বেছে নেওয়া হয়েছে। পাইলট শেষ হলে সব মার্চেন্টের জন্য এই সুবিধা উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
এর আগে বিকাশ তার গ্রাহকদের জন্য কয়েকটি ব্যাংকের সঙ্গে মিলে ন্যানো ঋণসেবা চালু করেছিল। এবার মার্চেন্টদের জন্যই বিশেষভাবে এই সেবা চালু করল ব্র্যাক ব্যাংক। আবদুল মোমেনের মতে, এতে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা দ্রুত কার্যকরী মূলধন সংগ্রহের সুযোগ পাবেন, যা তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণে সহায়ক হবে।
বাংলাদেশে ডিজিটাল আর্থিক সেবা সম্প্রসারণের পথে অন্যতম বড় প্রতিবন্ধকতা হলো বিভিন্ন অংশীজনের তথ্য সহজলভ্য না হওয়া। আবদুল মোমেন এই প্রসঙ্গে বলেন, ব্যাংক, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রতিষ্ঠান এবং টেলিযোগাযোগ অপারেটরগুলোর তথ্য যদি নিরাপদ ও নীতিমালার আওতায় আরও সহজলভ্য হয়, তাহলে নতুন আর্থিক পণ্য উদ্ভাবন এবং দ্রুত ঋণসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া অনেক সহজ হবে। তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ বাড়লে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য আরও উদ্ভাবনী আর্থিক পণ্য ও সেবা চালু করা সম্ভব হবে বলেও জানান তিনি।
অস্ট্রেলিয়া সরকারের পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য বিভাগের (ডিএফএটি) সহায়তায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এম মাসরুর রিয়াজ। আলোচনায় আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নুরুল আমিন, আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশের (অ্যামচেম) সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল, পিডব্লিউসি বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজিং পার্টনার শামস জামান, ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি শামস মাহমুদ এবং এইচএসবিসি ব্যাংকের হেড অব মাল্টিন্যাশনাল হোলসেল ব্যাংকিং আন্দালিব মির্জা।




