মশক নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত ওষুধের সরবরাহে কোনো সংকট নেই; বরং নাগরিকদের সচেতনতার অভাবই কার্যক্রমের প্রধান প্রতিবন্ধকতা। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম বৃহস্পতিবার এ মন্তব্য করেন। বিশ্ব মশা দিবস উপলক্ষে প্রথম আলো ডটকমের আয়োজনে ‘মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে সচেতনতা ও করণীয়’ শীর্ষক একটি ফেসবুক লাইভে তিনি বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনায় ছিলেন পার্থ শঙ্কর সাহা; আলোচনাটি প্রথম আলোর বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সরাসরি সম্প্রচারিত হয়।

প্রশাসক সালাম জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে মশা দমনের ধারাবাহিক উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এবার মশার উপদ্রব উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। সিটির ৭৫টি ওয়ার্ডে জরিপ চালিয়ে ২৭টি এলাকাকে ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব স্থানে বিশেষ ‘ক্র্যাশ প্রোগ্রাম’ পরিচালনার পাশাপাশি মসজিদ, মাদ্রাসা, স্কুল ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জনসচেতনতা বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

কীটনাশক প্রয়োগের নির্দিষ্ট নিয়ম সম্পর্কে তিনি ব্যাখ্যা দেন, একটি জায়গায় ওষুধ দেওয়ার পর নতুন লার্ভা জন্মালে তা চার থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে মশায় রূপান্তরিত হতে পারে। সুতরাং প্রতিদিন ওষুধ ছিটানোর ধারণা ঠিক নয়। নির্ধারিত সময়ে ওষুধ প্রয়োগে ব্যর্থ হলে নাগরিকরা ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পেজে দেওয়া কন্ট্রোল রুমের নম্বরে যোগাযোগ করতে পারেন। এছাড়া চালু করা একটি অ্যাপের মাধ্যমেও অভিযোগ জানানো যায় এবং তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

ওষুধের কার্যকারিতা ও নির্বাচনের বিষয়ে সালাম বলেন, ঢাকা ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ববিদদের সুপারিশের ভিত্তিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য বিভাগের একটি বোর্ড অনুমোদন দেয়। সিটি করপোরেশন নিজে পরীক্ষা করে না; অনুমোদিত ওষুধই ব্যবহৃত হয়। সকালে লার্ভা ধ্বংসে ‘টেমিফস’ এবং বিকেলে উড়ন্ত মশা নিধনে ধোঁয়ার মাধ্যমে ‘মেলাথিয়ন’ প্রয়োগ করা হয়। কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়; পরে মন্ত্রী নিজে উপস্থিত থেকে নমুনা পরীক্ষা করিয়ে অনুমোদন দেন।

নজরদারি ও জবাবদিহির প্রসঙ্গে তিনি জানান, প্রতিটি বিভাগকে সক্রিয় রাখা হচ্ছে এবং কাজের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। স্বাস্থ্য ও পূর্ত বিভাগ এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে নিয়ে হাসপাতাল, নির্মাণাধীন বহুতল ভবন ও ধানমন্ডির মতো এলাকায় সরাসরি উপস্থিত হয়ে অভিযান ও উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। নিয়ম অমান্যকারী ভবনের বিরুদ্ধে জরিমানাও আরোপ করা হচ্ছে, যার ফলে অনেকাংশে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে।

তথ্য পার্থক্যের কারণ ব্যাখ্যা করে প্রশাসক বলেন, অন্য জেলা থেকে আসা রোগীরা দক্ষিণ সিটির হাসপাতালে ভর্তি হলে তাদের ঠিকানার কারণে দক্ষিণের রোগী হিসেবে দেখানো হতে পারে। তাই প্রকৃত অবস্থান শনাক্ত করা জরুরি, যাতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় সচেতনতা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা আরও জোরদার করা যায়।

মশা নিয়ন্ত্রণে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের ভূমিকা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ডেঙ্গুর প্রকোপ আসার আগেই প্রধানমন্ত্রী সতর্কতা জারি করেন এবং প্রায় পনেরো দিন পরপর সমন্বয় সভা করেন। সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে গুরুত্ব দেওয়ায় সংশ্লিষ্টদেরও দায়িত্বশীল হতে হচ্ছে।

সবশেষে নাগরিকদের উদ্দেশে তিনি আহ্বান জানান, নিজের ঘর, আঙিনা, রাস্তা ও আশেপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে হবে। মশা নিয়ন্ত্রণে সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব ৫০ শতাংশ এবং জনগণের দায়িত্ব ৫০ শতাংশ। উভয় পক্ষের সহযোগিতায় শতভাগ সাফল্য অর্জন সম্ভব। তিনি মনে করিয়ে দেন, এই নগর সবার—তাই দায়িত্বও সবার।