গরমে বা যেকোনো সময় আইসক্রিম প্রায় সবারই প্রিয়। তবে এর পেছনে রয়েছে কিছু চমকপ্রদ ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, যা জানা থাকলে আইসক্রিম উপভোগের মজা আরও বাড়ে। বর্তমান সময়ে আইসক্রিমের জগতে এসেছে নানা নতুনত্ব। লিকুইড নাইট্রোজেন ব্যবহার করে মাত্র কয়েক সেকেন্ডেই তৈরি হচ্ছে আইসক্রিম, যা ‘লিকুইড নাইট্রোজেন আইসক্রিম’ নামে পরিচিত। অন্যদিকে, থাইল্যান্ড থেকে আসা ‘রোলড আইসক্রিম’ এখন দেশেও তুমুল জনপ্রিয়। এই পদ্ধতিতে ঠান্ডা ধাতব প্লেটে দুধ ও ফলের মিশ্রণ ঢেলে খুন্তি দিয়ে চেঁছে রোল বানানো হয়। যাঁরা প্রাণিজ দুধ খান না, তাঁদের জন্য রয়েছে ‘ভিগান আইসক্রিম’, যা কাঠবাদাম, ওটস, সয়া বা নারকেলের দুধ দিয়ে তৈরি হয়।
ফ্লেভারের কথা বললে, পৃথিবীতে নানা রকমের অদ্ভুত ফ্লেভারের আইসক্রিম পাওয়া যায়। যেমন— রসুন, স্কুইডের কালি, হ্যালিপিনো (কাঁচা মরিচ), সয়া সস, এমনকি হট ডগ বা গরুর মাংসের ফ্লেভারও রয়েছে! তবে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় ভ্যানিলা ফ্লেভারের আইসক্রিম। এর পরেই জনপ্রিয় চকলেট ফ্লেভার।
আইসক্রিম কোনের জন্মের কাহিনি বেশ মজার। ১৯০৪ সালে আমেরিকার সেন্ট লুইস ওয়ার্ল্ড ফেয়ারে এক বিক্রেতার কাছে আইসক্রিম দেওয়ার বাটি ফুরিয়ে গেলে পাশের আরেক বিক্রেতা ওয়াফল পেঁচিয়ে কোন তৈরি করে দেন। সেখান থেকেই আইসক্রিম কোনের যাত্রা শুরু। অন্যদিকে, পপসিকল আইসক্রিম আবিষ্কৃত হয় ১৯০৫ সালে ফ্রান্সে, যা এখন দেশেও বেশ জনপ্রিয়।
খুব দ্রুত ঠান্ডা আইসক্রিম খেলে মাথায় যে তীব্র ব্যথা হয়, তাকে বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ‘স্নেপোপ্যালাটাইন গ্যাংলিওনিওরালজিয়া’, যা সাধারণ ভাষায় ‘ব্রেন ফ্রিজ’ নামে পরিচিত। এছাড়াও, বিশ্বের সবচেয়ে বড় আইসক্রিমের স্কুপ তৈরি করেছিল যুক্তরাষ্ট্রের একটি ডেইরি কোম্পানি ২০১৪ সালে। এর ওজন ছিল প্রায় ১ হাজার ৩৬৫ কেজি!
‘সানডে’ নামকরণের পেছনেও রয়েছে ইতিহাস। একসময় যুক্তরাষ্ট্রের কিছু শহরে রোববার সোডামিশ্রিত আইসক্রিম বিক্রি নিষিদ্ধ ছিল। এই আইন এড়াতে বিক্রেতারা সিরাপ দিয়ে আইসক্রিম বিক্রি শুরু করেন এবং নাম দেন ‘সানডে’।




