দুর্নীতি দমনে ক্ষমতাসীন বিএনপির আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। শুক্রবার ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে বাংলাদেশ পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের ত্রিবার্ষিক জাতীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের একটি বক্তব্যের দিকে ইঙ্গিত করে শফিকুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ইশারায় সবকিছু চললে দুর্নীতি বন্ধ হচ্ছে না কেন?

গত বৃহস্পতিবার এক অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল দেশের দুর্নীতির চিত্র নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে বলেছিলেন, আগে যারা ঘুষ খেত, তারা এখনো ঘুষ খাওয়ার ফন্দিফিকির করছে। একইভাবে যারা ভালো কাজ আটকে দিত, তারা এখনো তা আটকে দিচ্ছে। তিনি আরও বলেছিলেন, লোকজন ভোল পাল্টাচ্ছে এবং ভোল পাল্টানো লোকজনই এখন অনেক বেশি জুলাই যোদ্ধা হয়ে গেছে। তবে তিনি আশাবাদী এ কারণে যে তিনি পরিবর্তন দেখছেন একজন মানুষের মধ্যে—প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মধ্যে।

বিএনপির মহাসচিবের সেই আক্ষেপের প্রসঙ্গ টেনে শফিকুর রহমান বলেন, ‘তাদের (বিএনপি) একজন জ্যেষ্ঠ নেতা হতাশা প্রকাশ করে বলেছেন, পাঁচ মাসের এই সরকারের সময় দুর্নীতি বন্ধ করা যায়নি; বরং বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই নেতার ভাষায়, তারেক রহমান ছাড়া সবাই দুর্নীতিতে লিপ্ত। প্রশ্ন হলো, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চান না, তারপরও সবাই দুর্নীতি করে কীভাবে? তাঁর ইশারায় সবকিছু চলে, তাহলে তাঁর ইশারায় দুর্নীতি বন্ধ হয় না কেন?’ এ ‘দায় স্বীকার’ করার পর সরকার ক্ষমতায় থাকার নৈতিক অধিকার হারিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

চাঁদাবাজির জন্যও বিএনপিকে দায়ী করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘তারেক রহমানের সরকার চেষ্টা করতেছেন এটাকে কিছু নিচে নামাইয়া আনার। মানে এইটার মাধ্যমে দ্বিতীয় দফা চাঁদাবাজিকে জাতীয় সনদ বা স্বীকৃতি দেওয়া হলো। এক কোটি–দেড় কোটি মানুষকে তারা চাকরি দেবেন, তাই না? অনেকে বলে যে চাকরি তো দিয়েই দিয়েছেন, আর দেওয়া লাগবে কেন? টেম্পোস্ট্যান্ডের চাকরি...এই চাকরি তো আমাদের জনগণ চায় না, এই চাকরিকে এই দেশের জনগণ ঘৃণা করে।’

পরিবহনশ্রমিকদের ওপর বিএনপির নেতা-কর্মীদের চাঁদাবাজির অভিযোগ করে শফিকুর রহমান সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আল্লাহ মহাবিপদ থেকে এই জাতিকে রক্ষা করেছেন। হঠকারিতা করে জাতির কপালে এ রকম মহাবিপদ ডেকে আনবেন না। তাহলে ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হবেন।’ জনগণের চাওয়ার বিপরীতে চললে জামায়াত কাউকে ছেড়ে কথা বলবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। তিনি আরও বলেন, জামায়াত কোনো আধিপত্যবাদের কাছে মাথা নত করবে না এবং তাদের বিরুদ্ধে হাজার ষড়যন্ত্র হচ্ছে দাবি করে বলেন, ‘আল্লাহ আমাদের জন্য যথেষ্ট। আমরা আল্লাহর ওপর চূড়ান্ত ভরসা রাখি।’

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করলে তা বরদাশত করা হবে না বলেও সরকারকে হুঁশিয়ারি দেন জামায়াত আমির। এককভাবে কেউ যেন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের কৃতিত্ব দাবি না করে, সে আহ্বান জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, অভ্যুত্থান কারও একার নয়। শহীদরাও কারও দলীয় সম্পদ নয়, তারা জাতির সম্পদ। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ ও আহত ব্যক্তিদের যথাযথ স্বীকৃতি ও সম্মান দেওয়া হচ্ছে না অভিযোগ করে তিনি বলেন, আহত, পঙ্গুরা এখনো কষ্টে কাতরাচ্ছেন। অনেকে কাজকর্ম করতে পারেন না। তাঁদের যেভাবে স্বীকৃতি ও সম্মান দেখানো উচিত, সেটা দেখানো হচ্ছে না। অবশ্যই জুলাই শহীদ ও জুলাই যোদ্ধাদের প্রাপ্য সম্মান দিতে হবে।

সম্মেলনে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান বলেন, চাঁদাবাজমুক্ত পরিবহন সেক্টর করতে হলে চাঁদাবাজমুক্ত নেতৃত্ব করতে হবে। নেতৃত্ব চাঁদাবাজ না হলে চাঁদাবাজিমুক্ত দেশ গড়া সম্ভব হবে। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি কবির আহমদ। আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি আতিকুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক লস্কর মোহাম্মদ তসলিম প্রমুখ।