বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন ভবনে রাষ্ট্রপতি পদের জন্য ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়। জোটের পক্ষে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ এই মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় অংশ নেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ।

তিনি সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিএনপির দলীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার ঘটনায় তীব্র আপত্তি জানান। তাঁর ভাষায়, সচিবালয় একটি নির্বাহী স্থান; সেখানে রাজনৈতিক দলের শীর্ষ পর্যায়ের কোনো সভা হওয়ার কোনো নজির তাঁর জানা নেই। আজ দুপুরে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সচিবালয়ে দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে বসে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থিতা চূড়ান্ত করেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, “বিএনপি নিজেই এই কাজ করছে। সেক্ষেত্রে গণতন্ত্র সম্পর্কে তাঁদের অবস্থান কী? নিজেদের বেলায় গণতন্ত্র, অন্যদের বেলায় স্বৈরতন্ত্র—এই নীতিই কি প্রযোজ্য?”—এমন প্রশ্ন তোলেন তিনি।

প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া কাম্য নয়—এই যুক্তিতেই ১১-দলীয় জোট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী দিয়েছে বলে ব্যাখ্যা দেন জামায়াত নেতা। গণতন্ত্রের প্রকৃত সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার মধ্যেই নিহিত রয়েছে; এই ধারাকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতেই তাঁদের এই সিদ্ধান্ত। অলি আহমদ সম্পর্কে তিনি উল্লেখ করেন, তিনি একজন খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা এবং জাতীয় পর্যায়ে কোনো সমালোচনা বা বিতর্কের ঊর্ধ্বে অবস্থান করেন। সংসদ সদস্যদের কাছেও তিনি একটি অত্যন্ত গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিত্ব বলে তাঁর বিশ্বাস।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে গণতন্ত্রের চর্চা সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন হামিদুর রহমান আযাদ। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুসারে সংসদ সদস্যরা দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ভোট প্রদানের সুযোগ পান না। তিনি মনে করেন, বিএনপি চাইলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য গোপন ব্যালটের বিধান চালু করতে পারত। “সবাই মিলে যখন একমত হয়েছি, তখন একটি অধ্যাদেশ জারি করে বাংলাদেশে গণতন্ত্রকে উচ্চপর্যায়ে চর্চা শুরু করার সুযোগ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু তারা সেটি করলেন না,”—বলেন তিনি। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হলে ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধিত হতো এবং এমপিরা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারতেন বলেও তাঁর বক্তব্য। গণভোটের রায় কার্যকর হলে কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বিপুল ভোটে বিজয়ী হতেন বলে আশা প্রকাশ করেন জামায়াতের এই নেতা, কারণ সংসদ সদস্যদের কাছে তিনি একটি গ্রহণযোগ্য বিকল্প।

সাতক্ষীরা-৪ আসনের জামায়াতের বহিষ্কৃত এমপি গাজী নজরুল ইসলাম প্রসঙ্গে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অবিকল থাকবে, ততক্ষণ সংসদ সদস্যদের সেই অনুযায়ীই ভোট প্রদান করতে হবে।

এছাড়া নির্বাচন কমিশনে (ইসি) অতিরিক্ত সচিব পদে সামসুল আলমের নিয়োগ নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দিন পাটওয়ারীর অভিযোগও প্রতিবেদনে উঠে আসে। তাঁর মতে, সামসুল আলম আগে বিএনপির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং পরবর্তীতে ইসির অতিরিক্ত সচিব পদে নিযুক্ত হন। তিনি এখনো ইসি ভবনে কর্মরত রয়েছেন। ফলে ইসিকে বিএনপি তাদের দলীয় কার্যালয়ে রূপান্তরিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে—এই অভিযোগ সত্য বলে দাবি করেন নাসির উদ্দিন পাটওয়ারী।