আগামী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বিএনপির পক্ষে প্রার্থী হিসেবে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়নপত্র দাখিল করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের নির্বাচনী কর্তা এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে এই মনোনয়নপত্র জমা দেয় বিএনপির একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মনোনয়নপত্রে প্রস্তাবক হিসেবে স্বাক্ষর করেছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য আবদুল মঈন খান। অপরদিকে সমর্থক হিসেবে সই করেছেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় সংসদ সদস্যদের প্রকাশ্য ভোটের মাধ্যমে। এই ভোটে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কোনো সংসদ সদস্য ভোট দিতে পারবেন না। সেক্ষেত্রে সংসদ সদস্য পদ বাতিল হওয়ার বিধানও রয়েছে।

বর্তমান সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন থাকায় মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়া এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। তবে এবারের নির্বাচনে একাধিক প্রার্থী থাকতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। বিরোধী দল ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে অলি আহমদকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে শেষ মুহূর্তে কোনো প্রার্থী প্রত্যাহার না করলে আগামী ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদ ভবনের কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময়সীমা ছিল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। মনোনয়নপত্র বাছাই করা হবে ১৬ আগস্ট। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৮ আগস্ট এবং ভোটগ্রহণের দিন নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ আগস্ট।

মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় প্রতিনিধিদলে উপস্থিত ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী, হুইপ আশরাফ উদ্দীন নিজান, মিয়া নুরুদ্দীন অপু, রকিবুল ইসলামসহ দলের অন্যান্য নেতারা।

এদিকে মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হলে দলের মহাসচিব পদে কে বসবেন তা নিয়ে দল内部ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। দলের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদে সম্ভাব্য উত্তরসূরি নিয়েও নানা গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। তবে এ বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি দলটি।