জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদা মিতু শনিবার কড়া সুরে ভারতের পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ করে বলেন, “হাসিনা এখানে বসে উঁকি দেন। পালাব না বলে পালিয়ে গেছেন। আপনি আসি আসি বলে আসবেন না, এমন ধোঁকা আপনার নেতা-কর্মীদের দিয়েন না।” তিনি আরও জানান, ফাঁসির রশি প্রস্তুত রয়েছে এবং হাসিনা ফিরলে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে।

শনিবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের সুরসম্রাট দি আলাউদ্দিন সঙ্গীতাঙ্গন মিলনায়তনে জেলা এনসিপি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে এই বক্তব্য রাখেন তিনি। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছিল। সমবেত নেতাকর্মীদের প্রতি ইঙ্গিত করে মাহমুদা মিতু আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের রাস্তায় উপস্থিতি প্রতিহত করার নির্দেশ দেন।

তিনি দলের কর্মীদের প্রশ্ন ছুড়ে বলেন, “জুলাইয়ের কথা এনসিপি ছাড়া আর কে বলে?” বিএনপি প্রসঙ্গ টেনে তিনি মন্তব্য করেন, তারা প্রায়ই অভিযোগ করে যে জুলাই বিপ্লবকে পুঁজি করে ব্যবসা করা চলবে না। তবে এই অভিযোগের কড়া জবাব দিয়ে এনসিপি নেত্রী বলেন, “আপনারা ব্যবসা বলে আমাদের আটকাইয়া রাখতে পারবেন না। আমরা প্রত্যেকটা শহীদের কথা বলব।”

বিএনপির বিষয়ে আরও কথা বলতে গিয়ে তিনি দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে “আপসহীন নেত্রী” হিসেবে অভিহিত করে তাঁর প্রশংসা করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, খালেদা জিয়া শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত লড়াই করেছেন এবং কেউ তার কণ্ঠরোধ করতে পারেনি, তিনিও সংস্কারের পথিকৃৎ ছিলেন। তিনি স্পষ্ট করেন, বিএনপির সঙ্গে এনসিপির এই লড়াই শহীদের স্বপ্ন পূরণ, একটি সুশাসিত দেশ উপহার দেওয়া, বেকার যুবসমাজের হাতে চাকরি তুলে দেওয়া ও নারীর সম্ভ্রম রক্ষার লড়াই।

তিনি আরও বলেন, “আমরা পুলিশ সংস্কার চেয়েছি। আমরা চেয়েছি, পুলিশ কারও দলদাস হবে না।” এই ধরনের আমূল পরিবর্তন এনপিসি আনতে চায় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

জেলা এনসিপির আহ্বায়ক মো. জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় অন্যান্যদের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের আরেক সংসদ সদস্য ও শহীদ জাবির ইব্রাহিমের জননী রোকেয়া বেগম, এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আতাউল্লাহ, কেন্দ্রীয় নারীশক্তির যুগ্ম আহ্বায়ক খন্দকার খালেদা আক্তার, জেলা যুবশক্তির আহ্বায়ক মো. মুজিব, জাতীয় ছাত্রশক্তির জেলা আহ্বায়ক তাজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক শিমুল চৌধুরী প্রমুখ বক্তব্য প্রদান করেন।