দেশজুড়ে বিরাজমান গ্যাস-সংকট ও এর দাম বৃদ্ধির প্রস্তাবের বিরুদ্ধে শনিবার বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এক ব্যতিক্রমী প্রতিবাদ সমাবেশ ও প্রতীকী মার্চ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। খালি রান্নার বাসন ও পাতিল হাতে নিয়ে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা পেট্রোবাংলা ভবন অভিমুখে এই মার্চে অংশ নেন, যা গৃহস্থালির রান্নার কাজে বিপর্যয়ের চিত্রই তুলে ধরে।
সম্প্রতি পেট্রোবাংলা কর্তৃক জ্বালানি বিভাগে পাঠানো এক চিঠিতে বিদ্যুৎ ও সিএনজি খাতে গ্যাসের মূল্যব্রিরির জন্য নীতিগত অনুমতি চাওয়া হয়। প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে, বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে গ্যাসের দাম ৬৭ শতাংশ এবং পরিবহন খাতে ব্যবহৃত সিএনজি (সিস্টেমভিত রুপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস)-র দাম ৫১ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর কথা। পাশাপাশি, ছয়টি গ্যাস বিতরণ কোম্পানির বিতরণ মাশুলও বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। এই পাঁয়তারা বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হলে কঠোর আন্দোলনের বার্তা দিয়েছেন এনসিপি নেতারা।
এনসিপির ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার আয়োজন সার্ক ফোয়ারা থেকে শুরু হওয়া সমাবেশের পর এক মিছিল পেট্রোবাংলা ভবনের সমানে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে সংগঠনের কেন্দ্রীয় জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব সমাপনী বক্তৃতায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, 'জনগণের জ্বালানি চাহিদা পূরণের বদলে পেট্রোবাংলা ও তিতাসের মতো সংস্থাগুলি লুটপাটের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। এখানে নিয়োগ-পদোন্নতির বাণিজ্যে কোটি কোটি টাকা লেনদেন হয়।' এই দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত পিছু হটে না এলে ঢাকাবাসীকে সংগঠিত করে পেট্রোবাইলার সদর দপ্তর অবরোধের হুমকি দেন তিনি, যাতে কোনো কর্মকর্তা সেখানে প্রবেশ বা বের হতে না পারেন।
আরিফুল ইসলাম আরও বলেন, ‘গৃহকণারা গ্যাসের অভাবে রান্না করতে হিমশিম খাচ্ছেন। তারই বহিঃপ্রকাশ এই খালি বাসন-পাতিল। সমস্যার দ্রুত সমাধান না এলে জ্বালানি উপদেষ্টাসহ সংশ্লিষ্টদের পদত্যাগে ব্যথ্য করা হবে।’ এর আগে সংগঠনের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল মনসুর ১০ আগস্টের মধ্যে সংকট নিরসনের শেষ তারিখ দান করে বলেন, বিদ্যুতের মতো গ্যাসের মূল্যও দ্বিগুণ হলে পেট্রোবাংলার অফিসের আসবাবপত্র পর্যন্ত বের করে আনা হবে। সমাবেশে এনসিপি’র যুগ্ম সদস্যসচিব জয়নাল আবেদীন শিশির, উত্তরের যুগ্ম আহ্বায়ক অহিদুল আলম এবং অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। নেতৃত্ব জানায়, গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে এই ধারাবাহিক আন্দোলন আগামীতে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদেও বৃহত্তর রূপ নেবে।




