বরিশাল নগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের ময়দানখোলা এলাকায় সাতটি শিয়াল পিটিয়ে ও টেঁটাবিদ্ধ করে হত্যার ঘটনায় বন বিভাগ আইনি পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে। গত ২ জুলাই সংঘটিত এই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। বরিশাল বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি তাদের নজরে আসার পর ওই এলাকায় লোক পাঠিয়ে তদন্ত করা হয়েছে এবং জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। তিনি আরও জানান, বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ অনুযায়ী রোববার আদালতে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় শিয়ালের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় অনেকের গৃহপালিত পশুপাখির ক্ষতি হচ্ছিল। এ কারণে স্থানীয় কিছু ব্যক্তি মিলে সিদ্ধান্ত নেন শিয়াল নিধনের। ২ জুলাই ভোরে প্রায় ৬০-৭০ জনের একটি দল জঙ্গলে প্রবেশ করে শিয়ালের আস্তানায় হামলা চালায়। শিয়ালগুলো পালানোর চেষ্টা করলেও লাঠি ও টেঁটার আঘাতে সাতটি শিয়ালের মৃত্যু নিশ্চিত হয়। হামলাকারীরা পরে কয়েকটি শিয়াল জবাই করে বাজারে নিয়ে যায় এবং বাকি মাংস ও চামড়া মাটিচাপা দেয়।
ঘটনার ভিডিওতে পাঁচটি মৃত শিয়াল পড়ে থাকতে দেখা যায়, পাশেই আরও দুটি শিয়ালের চামড়া ছাড়ানো হচ্ছে। ভিডিওতে এক ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, শিয়ালগুলো হাঁস-মুরগি ও ছাগল খাওয়ায় মারা হয়েছে এবং কারও প্রয়োজন হলে মাংস নিয়ে যেতে পারেন। এই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয় এবং পরে ভিডিওটি সরিয়ে ফেলা হয়।
এদিকে, শিয়ালের মাংস খেলে রোগ ভালো হয়—এমন কুসংস্কারে বিশ্বাসী কয়েকজন ওই দিন রাতে শিয়ালের মাংস রান্না করে রুটি-পিঠা দিয়ে খেয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে কারা মাংস খেয়েছেন বা হত্যাকাণ্ডে নেতৃত্ব দিয়েছেন তা বলতে রাজি হননি স্থানীয়রা।
২৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মো. ফরিদ উদ্দিন হাওলাদার বলেন, ঘটনাটি তিনি শুনেছেন তবে জড়িতদের বিষয়ে নিশ্চিত নন। অন্যদিকে, পরিবেশবাদী ও প্রাণী অধিকারকর্মীরা বন্য প্রাণী আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন উল্লেখ করে দ্রুত জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, শিয়াল বাস্তুতন্ত্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং এভাবে নির্বিচার হত্যা পরিবেশের জন্য হুমকি।
বন বিভাগের কর্মকর্তা আরও জানান, শিয়াল সংরক্ষিত বন্য প্রাণী হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়ায় এগুলোর শিকার, হত্যা ও মাংস বিক্রি আইনত শাস্তিযোগ্য অপরাধ। মামলা দায়েরের পর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




