মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুর ১৪ মাস নিয়ে রচিত 'রেজিম চেঞ্জ: ইনসাইড দ্য ইম্পেরিয়াল প্রেসিডেন্সি অব ডোনাল্ড ট্রাম্প' প্রকাশনার প্রথম সপ্তাহেই ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান সাইমন অ্যান্ড শুস্টার জানিয়েছে, বইটির তিন লাখের বেশি প্রতিলিপি ইতোমধ্যে বিক্রী হয়েছে। চলতি বছরে হার্ডকভার নন-ফিকশন বিভাগে প্রথম সপ্তাহের বিক্রিতে এটিই শীর্ষে অবস্থান করছে। চাহিদা এতটাই বেশি যে বইটির তৃতীয় দফায় আরও দুই লাখ কপি মুদ্রণের কাজ শুরু হয়েছে।

প্রথম মেয়াদে ট্রাম্পকে নিয়ে লেখা একাধিক বই ব্যাপক সাফল্য পেলেও দ্বিতীয় মেয়াদে তেমন বিক্রি দেখা যায়নি। অনেক প্রকাশক ধারণা করেছিলেন ট্রাম্পের প্রতি পাঠকের আগ্রহ কমে গেছে এবং তাঁর সম্পর্কে নতুন করে জানার মতো তেমন কিছু আর নেই। তবে এই বই সেই ধারণাকে ভুল প্রমাণিত করেছে। অফলাইনের পাশাপাশি অ্যামাজনেও দ্রুত শেষ হয়ে গেছে বইটির স্টক।

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদক ম্যাগি হ্যাবারম্যান ও জনাথন সোয়ান যৌথভাবে গ্রন্থটি রচনা করেছেন। তাঁরা ট্রাম্পের হোয়াইট হাউসের ওয়েস্ট উইং, সরকারি বাসভবন, ফ্লোরিডার মার-এ-লাগো এস্টেট, এয়ারফোর্স ওয়ান এবং তাঁর বিভিন্ন বিদেশ সফরের নেপথ্যের নানা ঘটনা পাঠকের সামনে তুলে ধরেছেন। বইটিতে ট্রাম্পের সামরিক সিদ্ধান্ত, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মার্কিন বিচার বিভাগ ব্যবহারের কৌশল, ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত আলাপ এবং হোয়াইট হাউসের সাজসজ্জা ও কাঠামো পরিবর্তনের আগ্রহের বিস্তারিত বর্ণনা স্থান পেয়েছে।

বই প্রকাশের পর ট্রাম্প নিজেই এর কঠোর সমালোচনা করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে তাঁর সংবাদ প্রকাশ করা হ্যাবারম্যানকে উদ্দেশ্য করে বইটিকে 'বেশির ভাগই বানানো গল্প' বলে আখ্যা দেন তিনি। অন্যদিকে, লেখকদ্বয় নিয়মিত টেলিভিশন টক শোতে অংশ নিয়ে বইটির প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। সেখানে তাঁরা ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁদের একান্ত সাক্ষাৎকারের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করছেন। জানা গেছে, সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইতিহাসের কয়েকজন কুখ্যাত শাসকের সঙ্গে নিজের তুলনা টানায় গর্ব প্রকাশ করেছিলেন।

সাইমন অ্যান্ড শুস্টারের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রকাশক শন ম্যানিং বলেছেন, গ্রন্থটি ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। তাঁর মতে, 'রেজিম চেঞ্জ' ভবিষ্যতে ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সি নিয়ে গবেষণার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে বিবেচিত হবে।