জিম্বাবুয়েতে বিজ্ঞানীরা একটি সম্পূর্ণ নতুন প্রজাতির ডাইনোসরের সন্ধান পেয়েছেন, যা প্রায় ২১ কোটি বছর আগের ‘লেট ট্রায়াসিক’ যুগের। ‘মুসাঙ্গো মাতুসাডোনায়েনসিস’ নামক এই ডাইনোসরের কঙ্কাল ২০১৮ সালে উত্তর জিম্বাবুয়ের কারিবা হ্রদের তীর থেকে খনন করে উদ্ধার করা হয়। এটি জিম্বাবুয়ে থেকে এ পর্যন্ত শনাক্ত হওয়া পঞ্চম ডাইনোসর।
এই আবিষ্কারের সাথে জড়িত আন্তর্জাতিক জীবাশ্মবিদদের দল জানিয়েছে, ডাইনোসরটি লেট ট্রায়াসিক যুগে বাস করত, যখন ডাইনোসররা পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছিল কিন্তু তখনো স্থলভাগের প্রভাবশালী প্রাণীতে পরিণত হয়নি। লন্ডনের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামের গবেষক পল ব্যারেট বলেন, “সাম্প্রতিক সময় পর্যন্ত ধারণা করা হতো, দক্ষিণ আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলে বসবাসকারী ডাইনোসরগুলো মূলত একই প্রজাতির ছিল। কিন্তু এই আবিষ্কার স্পষ্ট করে যে অঞ্চলটি আসলে কয়েকটি স্বতন্ত্র বাস্তুতন্ত্র নিয়ে গঠিত ছিল এবং প্রতিটি বাস্তুতন্ত্রেই ভিন্ন ভিন্ন ডাইনোসর প্রজাতির আবাস ছিল।”
মুসাঙ্গো ছিল তুলনামূলকভাবে হালকা গঠনের, দৈর্ঘ্যে প্রায় ৪.৫ মিটার (১৫ ফুট) এবং ওজন আনুমানিক ২২২ কেজি (৪৯০ পাউন্ড)। এটি দীর্ঘ-গলাবিশিষ্ট বিশালাকার ডাইনোসরের মতো নয়, বরং অপেক্ষাকৃত ছোট ও হালকা ছিল। ডাইনোসরটির নাম রাখা হয়েছে স্থানীয় ‘শোনা’ ভাষার শব্দ ‘মুসাঙ্গো’ থেকে, যার অর্থ ঝোপঝাড় বা বনে বসবাসকারী। গবেষকদের ধারণা, মুসাঙ্গো তৃণভোজী অথবা সর্বভুক ছিল এবং নদী ও ঝরনার তীরে জন্মানো উদ্ভিদ খেয়ে জীবনধারণ করত।
জীবাশ্মটি জিম্বাবুয়েতে আবিষ্কৃত একই সময়ের ডাইনোসরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে সম্পূর্ণ কঙ্কালগুলোর একটি। এতে মেরুদণ্ড, পাঁজর, হাত, পা এবং পায়ের হাড় পাওয়া গেছে, তবে মাথার খুলি এখনও পাওয়া যায়নি। হাড়ের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মুসাঙ্গো যখন মারা যায় তখন তার বয়স প্রায় আট বছর এবং সে প্রায় পূর্ণবয়স্ক ছিল। জীবদ্দশায় এটি কোনো গুরুতর আঘাত বা সংক্রমণ থেকে সেরে উঠেছিল।
গবেষক দলটির এই ফলাফল ‘জার্নাল অব সিস্টেমেটিক প্যালিওন্টোলজি’ সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। পল ব্যারেট আরও বলেন, “এই আবিষ্কার ইঙ্গিত করে যে আমরা এখন পর্যন্ত যা পেয়েছি, তা হিমশৈলের চূড়ামাত্র। অঞ্চলটিতে আরও অনেক অজানা ডাইনোসর প্রজাতি লুকিয়ে থাকতে পারে।”
২০২২ সালে জিম্বাবুয়ের বিজ্ঞানীরা আফ্রিকার প্রাচীনতম ডাইনোসরের জীবাশ্ম আবিষ্কার করেছিলেন, যা ‘এম্বিরেসরাস রাথি’ নামে পরিচিত এবং প্রায় ২৩ কোটি বছর আগে পৃথিবীতে বিচরণ করত। সেই ডাইনোসরের উচ্চতা ছিল মাত্র এক মিটার, লম্বা লেজ এবং ওজন সর্বোচ্চ প্রায় ৩০ কেজি।




