গ্রাহকদের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স) প্রতি বিরক্তি ও মোহভঙ্গের একটি ধারা বাড়ছে বলে সম্প্রতি বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেছেন। অর্থনীতির চারপাশে বিরাজমান অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপট এই অস্বস্তির অনুভূতিকে আরও ঘনীভূত করে তুলেছে। এর প্রত্যক্ষ ফল হিসেবে, ভোক্তাদের মাঝে এক ধরনের ব্যবহারিকতা এবং ঝুঁকিবিমুখ মনোভাব আরও জোরালো হচ্ছে।

বাজার বিশেষজ্ঞরা লক্ষ করছেন যে, আগে যেখানে প্রযুক্তির অন্ধ-আনুগত্য ছিল, সেখানে এখন ক্রেতারা অনেক বেশি বিচক্ষণ ও সতর্ক হয়ে উঠছেন। অত্যাধুনিক এআই টুলগুলোর প্রতি তাদের আস্থার ঘাটতি তৈরি হয়েছে, যার পেছনে একাধিক কারণ বিদ্যমান। অর্থনৈতিক চাপ ও ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তাদেরকে সঞ্চয়মুখী ও প্রয়োজন-কেন্দ্রিক সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করছে। বিলাসবহুল বা অপ্রয়োজনীয় মনে হওয়া কোন কিছুর প্রতি তাদের ঝুঁকানো কমে যাচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে খুচরা ব্যবসা ও বিক্রেতাদের জন্য কৌশল পরিবর্তনের পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, কোম্পানিগুলোর উচিত এই ক্রেতা-হতাশাকে মোকাবেলা করে তাদের সেবা আরও বিশ্বাসযোগ্য ও স্বচ্ছ করে তোলা। গ্রাহকদের বাস্তবিক চাহিদা বোঝা এবং তদনুযায়ী এআই-চালিত সেবার পুনর্বিন্যাসই হতে পারে সামনের দিনের চাবিকাঠি। পণ্য বা সেবা বাহির করার ক্ষেত্রে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার যেন কোনোভাবেই গ্রাহক অভিজ্ঞতাকে নেতিবাচক না করে, সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে হবে।

ফলত, বর্তমান ধারা ইঙ্গিত করছে যে ব্যবসাগুলো যদি ক্রেতার মানসিকতা:র এই বিবর্তনকে সঠিকভাবে উপলব্ধি করে এবং তাদের পরিকল্পনাকে সেই মতো সাজায়, তবেই কেবল তারা এই প্রতিযোগিতামূলক ও চ্যালেঞ্জিং পরিবেশে নিজেদের প্রাসঙ্গিকতা বজায় রাখতে সক্ষম হবে।