আপনার হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট যদি হ্যাক হয়ে যায়, তবে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার বিকল্প নেই। অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার ও ভবিষ্যতের জন্য সেটিকে নিরাপদ করে তোলার প্রক্রিয়া সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা অপরিহার্য।
এই অবস্থায় প্রথমেই মাথায় আসা উচিত কিছু সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের কথা। হ্যাক হওয়া অ্যাকাউন্টে পুনঃপ্রবেশের চেষ্টা করতে হবে। যেহেতু হ্যাকার আপনার অ্যাকাউন্টের দখল নিয়েছে, তাই আপনাকে আবারও লগ ইন করে সেই দখল ছিনিয়ে নিতে হবে। আপনার ফোন নম্বর দিয়ে লগ ইন করার পর হোয়াটসঅ্যাপ একটি ছয় সংখ্যার ভেরিফিকেশন কোড পাঠাবে। এই কোডটি আপনার হাতে পৌঁছালেই বুঝতে হবে আপনি সঠিক পথে আছেন। কিন্তু যদি দেখা যায় আপনার অ্যাকাউন্টের সাথে টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন সক্রিয় করা ছিল, এবং সেই পিনটি হ্যাকার সেট করে রেখেছে, তাহলে আপনাকে সাত দিন অপেক্ষা করতে হতে পারে। কেননা, পিনটি না জানলে এই সময়ের আগে অ্যাকাউন্টে প্রবেশ সম্ভব নয়।
এছাড়া, অ্যাকাউন্ট ফিরে পাওয়ার পর বা তার আগেও সতর্কতামূলক কিছু কাজ করা জরুরি। যেমন: আপনার অ্যাকাউন্ট থেকে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত মেসেজ আপনার কন্টাক্ট লিস্টের লোকজনের কাছে গেছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা। অনেক সময় হ্যাকাররা আপনার পরিচিতদের কাছে অর্থ চেয়ে বা ফিশিং লিংক পাঠিয়ে প্রতারণার চেষ্টা চালাতে পারে। সেজন্য আপনার বন্ধু ও পরিবারকে দ্রুত পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করে দিন।
উল্লেখ্য, অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা জোরদারে টিউ-স্টেপ ভেরিফিকেশন নিশ্চিতভাবেই চালু করে রাখা উচিত। এটি আপনার অ্যাকাউন্টকে বাড়তি একটি নিরাপত্তার প্রাচীর দিয়ে ঘিরে রাখে। হ্যাকাররা কীভাবে আপনার অ্যাকাউন্টে ঢুকতে পারে, তা বোঝাও গুরুত্বপূর্ণ। প্রায়শইই তারা সামাজিক চক্রের মাধ্যমেই ভেরিফিকেশন কোড হাতিয়ে নেয়। তাই কোনো অবস্থাতেই কাউকে আপনার ফোনে আসা ছয় সংখ্যার সেই গোপন কোডটি দেয়া উচিত নয়, তা সে খুবই পরিচিত বা বিশ্বস্ত কেউ হলেও।
হোয়াটসঅ্যাপ সাধারণত ইমেইলের মাধ্যমে টিউ-স্টেপ ভেরিফিকেশন রিসেট করার ব্যবস্থা দিয়ে থাকে, যা পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ায় সহায়ক। তাই অ্যাকাউন্টের সাথে একটি বৈধ ও নিরাপদ ইমেইল অ্যাড্রেস সংযুক্ত করা অত্যন্ত বুদ্ধিমানের কাজ। পুরো প্রক্রিয়াটির মূল কথাই হলো সচেতনতা ও দ্রুততা। হ্যাকের ঘটনা ঘটে গেলেই সবার আগে নিজের ফোন ও নম্বরের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করে অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধারের পদক্ষেপ নিতে হবে।



