ওয়াল স্ট্রিটে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ঝুঁকি-বিষয়ক ভীতির মাত্রা পরিমাপকারী সূচকটি সম্প্রতি ২০২৬ সালের সর্বনিম্ন স্তরে নেমে এসেছে। তবে বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই স্থিতিশীল চিত্রটি সাময়িক মাত্র। ‘ভিএইচএস’ বা ভোলাটিলিটি ইনডেক্স নামে পরিচিত এই সূচকটির পতনকে সাধারণত বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান আত্মতুষ্টির ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হয়।

বিশেষজ্ঞরা শঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, বাজারের জন্য ঐতিহ্যগতভাবে অস্থির সময় বলে পরিচিত একটি পর্ব শুরু হওয়ার আগেই এই নিম্নগামী প্রবণতা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বিপজ্জনক মাত্রার আত্মবিশ্বাস তৈরি করতে পারে। সূচকটির বর্তমান অবস্থান যতই স্বস্তিদায়ক মনে হোক না কেন, ইতিহাস বলছে, এমন নিম্নচাপের পর প্রায়ই বাজারে হঠাৎ বড় ধরনের ওঠানামা দেখা দেয়।

বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বাজারের এই ‘শান্ত’ চিত্র বেশিদিন বজায় থাকার সম্ভাবনা ক্ষীণ। বিভিন্ন ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি, মুদ্রাস্ফীতির চাপ এবং কর্পোরেট আয়ের ওপর অনিশ্চয়তা — সব মিলিয়ে সামনের দিনগুলোতে বাজারের গতিপথ যে সহজ হবে না, তা বেশ স্পষ্ট। ফলে বিনিয়োগকারীদের ‘খুব বেশি স্বস্তিতে না থাকার’ পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, সামনের সপ্তাহগুলোতে যেকোনো অপ্রত্যাশিত ঘটনা বা নেতিবাচক খবর এই সূচককে দ্রুত উপরের দিকে ঠেলে দিতে পারে। বাজারের এই নিম্ন অস্থিরতার সময়টাকে অনেকেই দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য সুযোগ হিসেবে দেখছেন, তবে অন্যদিকে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায়ও গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। আপাতত, বাজার পর্যবেক্ষকদের চোখ এখন আগামী কয়েক সপ্তাহের মূল্য আন্দোলনের দিকে, যেখানে এই ‘ফিয়ার গেজ’ সূচকের গতিপ্রকৃতিই নির্ধারণ করবে বিনিয়োগকারীদের পরবর্তী পদক্ষেপ।