প্রযুক্তিভিত্তিক যাত্রী পরিবহন ও খাবার ডেলিভারি প্ল্যাটফর্মগুলোর কর্মীরা এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় খাদ্য সহায়তা প্রাপ্ত কর্মী গোষ্ঠীতে পরিণত হয়েছেন। সরকারি অ্যাকাউন্টেবিলিটি অফিসের (জিএও) সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে, যা ২০২০ সালের চিত্র থেকে একটি বড় পরিবর্তন নির্দেশ করে। ওই বছর পরিচালিত এক জরিপে দেখা গিয়েছিল, ফুড স্ট্যাম্প বা স্ন্যাপ সুবিধা গ্রহীতাদের মধ্যে শীর্ষ দুই অবস্থানে ছিল খুচরা বিক্রেতা ওয়ালমার্ট এবং খাদ্য প্রতিষ্ঠান ম্যাকডোনাল্ডস।

সাধারণভাবে প্ল্যাটফর্মভিত্তিক এই কাজগুলোকে অতিরিক্ত আয়ের উৎস হিসেবে দেখা হলেও, বাস্তবে তা অনেকের জন্য প্রধান আয়ের পথ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে এই আয় দিয়ে গিগ কর্মীদের খাদ্য ও চিকিৎসার মৌলিক ব্যয় মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। মিশিগান মেট্রো এরিয়া কমিউনিটিজ স্টাডির সাথে যৌথভাবে পরিচালিত এক জরিপে অংশগ্রহণকারী ১ হাজারেরও বেশি মিশিগানবাসীর মধ্যে প্রায় ২২ শতাংশ গিগ কাজে যুক্ত ছিলেন। তাদের অর্ধেকই জানিয়েছেন, মৌলিক চাহিদা পূরণে এই কাজ অপরিহার্য বা গুরুত্বপূর্ণ। ফলে প্ল্যাটফর্ম কোম্পানিগুলো যখন প্রথাগত সুবিধা না দিয়ে কম মজুরিতে কর্মী নিয়োগ করে, তখন করদাতার অর্থে পরিচালিত সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলো সেই ঘাটতি পূরণ করছে।

উবার ও লিফটের মতো বড় প্ল্যাটফর্মগুলো সাধারণত তাদের কাজকে স্বাধীনতা ও নিজস্ব সময়ে আয়ের সুযোগ হিসেবে তুলে ধরে। জরিপে ১০ জনের মধ্যে ৯ জন কর্মী এই নমনীয়তাকে মূল্য দিয়েছেন এবং দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সামগ্রিক অভিজ্ঞতাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখেছেন। তবে স্বচ্ছতা, বেতন ও সুবিধা নিয়ে কর্মীদের মধ্যে উদ্বেগও রয়েছে। আসল প্রশ্ন হলো, এই নমনীয়তা কি আজকের অর্থনীতিতে তাদের টিকিয়ে রাখতে পারছে? মার্কিন অর্ধেকের কাছাকাছি মানুষ আর্থিকভাবে সংগ্রাম করছেন, ফলে গিগ কাজ ভবিষ্যতে আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই প্ল্যাটফর্মগুলো প্রথাগত কর্মসংস্থানের বিকল্প হয়ে উঠছে না। জরিপে মাত্র ৬ শতাংশ গিগ কর্মী অন্য চাকরি ছেড়ে এই কাজে এসেছেন। যখন গিগ কাজ আয়ের প্রয়োজনীয় উৎস হয়ে দাঁড়ায়, তখন স্বাস্থ্য, প্রতিবন্ধিতা বা কর্মচারী ক্ষতিপূরণের মতো সুবিধার অভাব একটি বড় সমস্যা হিসেবে দেখা দেয়।

শুধু খাদ্য সহায়তাই নয়, মেডিকেড গ্রহীতাদের দিক থেকেও এই প্ল্যাটফর্মগুলো এখন যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় বৃহত্তম নিয়োগকর্তা। ২০২০ সালে তারা শীর্ষ পাঁচে ছিল না। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাস করা আইনে মেডিকেড সম্প্রসারণকারী রাজ্যগুলোর জন্য কঠোর নতুন কাজের শর্ত যুক্ত হয়েছে। মাসে ৮০ ঘণ্টা কাজ বা পড়াশোনা না করলে মেডিকেড কভারেজ বাতিল হতে পারে। গিগ কর্মীদের জন্য এই শর্ত প্রমাণ করা বেশ কঠিন, কারণ বিভিন্ন অ্যাপে কাজের ঘণ্টা রিপোর্ট করার ফরম্যাট আলাদা এবং তারা প্রথাগত পে-স্টাব পান না। ফলে প্রকৃতপক্ষে ৮০ ঘণ্টা কাজ করলেও জটিল কাগজপত্রের কারণে অনেকেই কভারেজ হারাতে পারেন। স্বাস্থ্যবিমা হারানো এবং চিকিৎসা ব্যয় বৃদ্ধি তাদের আর্থিক অবস্থা আরও সংকটাপন্ন করবে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এই সমস্যার সমাধানে কিছু অঙ্গরাজ্যে আইনপ্রণেতারা সক্রিয় হয়েছেন। পোর্টেবল বেনিফিট মডেলটি একটি সম্ভাব্য সমাধান হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে প্ল্যাটফর্ম কোম্পানিগুলো কর্মীদের অ্যাকাউন্টে অর্থ জমা করবে এবং কর্মী এক প্ল্যাটফর্ম থেকে অন্য প্ল্যাটফর্মে গেলেও সেই সুবিধা বহাল থাকবে। জরিপে ৬১ শতাংশ গিগ কর্মী এই ধারণাকে সমর্থন জানিয়েছেন। নিউ ইয়র্কের ব্ল্যাক কার ফান্ড একটি সফল উদাহরণ, যা ২০১৪ সাল থেকে গিগ ড্রাইভারদের কভার করছে। যাত্রীদের কাছ থেকে আদায় করা চার্জের মাধ্যমে এই তহবিল পরিচালিত হয়। ২০২৩ সালে উবার ও লিফটের বিরুদ্ধে সুবিধা না দেওয়ার মামলায় ৩২৮ মিলিয়ন ডলারের নিষ্পত্তি হয়েছিল। ক্যালিফোর্নিয়ার প্রপোজিশন ২২ ভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করেছে, যেখানে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে সেখানে 'নিযুক্ত ঘণ্টা' গণনা ও পোর্টেবিলিটির অভাবে এক গবেষণায় দেখা গেছে, মাত্র ১০ শতাংশ ড্রাইভার স্বাস্থ্যসেবা ভাতা পাচ্ছেন। নিউ ইয়র্কে নিরপেক্ষ তৃতীয় পক্ষ যোগ্যতা নির্ধারণ করলেও ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মগুলোর কেন্দ্রীয় ভূমিকা বিতর্কের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নমনীয়তা এবং কর্মী সুরক্ষাকে পরস্পরবিরোধী না ভেবে স্থানীয় পর্যায়ে এমন নীতি গ্রহণ করা জরুরি, যাতে সামাজিক খরচ করদাতা বা কর্মীদের ওপরই বর্তায়।