যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিনির্ধারকদের আসন্ন বৈঠকটি তুমুল বিতর্কের মাধ্যমে পরিচালিত হবে বলে ধারণা করছেন অর্থনীতিবিদরা। ফেডারেল ওপেন মার্কেট কমিটি (এফওএমসি) মঙ্গল ও বুধবার মিলিত হবে, যা চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ারশের দায়িত্ব গ্রহণের পর দ্বিতীয় বৈঠক। পূর্ববর্তী মাসের প্রথম বৈঠকে তিনি সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার পক্ষে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত সত্ত্বেও সুদের হার নিয়ে ‘একটি ভালো পারিবারিক লড়াই’ হয়েছে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন। ওয়াল স্ট্রিটের পূর্বাভাস বলছে, জুনের বৈঠকের তুলনায় এবারের উত্তেজনার তাপমাত্রা বাড়তে পারে এবং নীতি সংকোচনের পক্ষে অন্তত দুইজন সদস্যের ভিন্নমত প্রকাশ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সিএনবিসির হিসেব অনুযায়ী, গত এপ্রিলে মনোনয়ন শুনানি শুরু হওয়ার পর থেকে ওয়ারশ প্রকাশ্যে ১৩ বার ‘পারিবারিক লড়াই’ শব্দগুচ্ছটি উচ্চারণ করেছেন। তিনি ফেডে এক ধরনের ‘শাসন কাঠামো পরিবর্তন’ আনতে চাইছেন। পরিস্থিতির এই পরিবর্তনের পেছনে অন্যতম কারণ হলো ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতি ভেস্তে যাওয়া এবং নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ার ফলে জ্বালানি তেলের দাম আবার ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। এবার তেলের মজুদ পরিচালনগত সর্বনিম্ন স্তরের কাছাকাছি, এবং লোহিত সাগর, কৃষ্ণ সাগর ও পারস্য উপসাগরে জাহাজ চলাচলেও হামলা হচ্ছে।

এছাড়াও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) জোয়ারের কারণে চিপ সংকটে ভোক্তা ইলেকট্রনিক্সের দাম বেড়েছে এবং হাইপারস্যাকলাররা তাদের মূলধনী ব্যয়ের উন্মাদনায় রাশ টানার কোনো ইঙ্গিত দিচ্ছে না। ফেডেরের বেশ কয়েকজন নীতি নির্ধারক ইতিমধ্যেই সংকেত দিয়েছেন যে, পাঁচ বছর ধরে ২ শতাংশের বেশি মূল্যস্ফীতির সাথে তাদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙেছে। বেশ কয়েকটি সাময়িক সরবরাহ ধাক্কা মেনে নেওয়ার পর তারা এখন কঠোর পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।

জুন মাসের প্রত্যাশার চেয়ে ভালো ভোক্তা মূল্য সূচক তাৎক্ষনিক সুদ বৃদ্ধির আশঙ্কা কিছুটা কমালেও তেলের দাম বাড়তে থাকায় বিনিয়োগকারীরা এখন আসন্ন বৈঠকে এক চতুর্থাংশ পয়েন্ট হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা ৩৪.২% দেখছেন, যা গত সপ্তাহে ১২.৮% ছিল। টিডি সিকিউরিটিজের মার্কিন অর্থনীতি প্রধান অস্কার মুনোজের বক্তব্য অনুযায়ী, “জুলাইয়ের এফমএসি হবে একটি ‘পারিবারিক কলহ’… ঠিক যেভাবে কেভিন ওয়ারশ চেয়েছিলেন।” তিনি আরও যোগ করেন, নীতি আরেকটি বৈঠকের জন্য স্থিতিশীল থাকলেও আগ্রাসী ভিন্নমতের শক্তি ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং তার প্রত্যাশা কমপক্ষে দুটি আগ্রাসী ভিন্নমত দেখা যাবে।

ফেড গভর্নর ক্রিস ওয়ালার ও ডালাস ফেড প্রেসিডেন্ট লরি লোগান উচ্চ মূল্যস্ফীতির সাথে কঠোরভাবে মোকাবিলার কথা বলেছেন। বিশেষ করে ক্লিভল্যান্ড ফেস প্রেসিডেন্ট বেথ হামার্ক উল্লেখ করেছেন, ব্যবসায়ীরা প্রথমবারের মতো মূল্যস্ফীতি দমনে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে এবং ভোক্তাদের মাঝে হতাশা ক্রমশই বাড়ছে। অন্যদিকে, জে পি মরগানের প্রধান মার্কিন অর্থনীতিবিদ মনে করছেন, বৈচিত্র্যপূর্ণ এই সিদ্ধান্তে অন্তত দুইটি ভিন্নমত থাকবে, তবে ভাইস চেয়ারম্যান ফিলিপ জেফারসনের মতো কিছু সদস্যের ধৈর্যের বার্তাও লক্ষণীয়। ফলে একটি সুদবৃদ্ধির জন্য চেয়ারম্যান ওয়ারশের তীব্র আবেদনের প্রয়োজন হতে পারে।

ব্যাংক অব আমেরিকার অর্থনীতিবিদদের মতে, তেলের দামের ঊর্ধ্বগতিতে বৈটিকের সিদ্ধান্ত এখন স্পর্শকাতর। তাদের পূর্বাভাষায় সুদ অপরিবর্তিত থাকলেও, ওয়ারশ দাঁড়িপাল্লার একদিকে প্রভাব ফেলতে পারেন। তারা মনে করছেন, ওয়ারশের কৌশলগত দিক থেকে দ্রুত দর বৃদ্ধির প্রণোদনা আছে, যদিও সরবরাহ ধাক্কার বিষয়টির উপেক্ষা করা তার কাঠামোর জন্যেও চ্যালেঞ্জিং হবে।