সিলেট মহানগরে শনিবার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশ নেন বাণিজ্য, শিল্প, পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। দিনের প্রথমাংশে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) উদ্যোগে নির্মিত ডিসপ্লে ও সেলস সেন্টার উদ্বোধন করেন তিনি। এ উপলক্ষে দেওয়া বক্তব্যে মন্ত্রী জানান, জাতীয় অর্থনীতিতে বর্তমানে সিএমএসএমই খাতের অবদান প্রায় ৩৪ শতাংশ; সরকারের লক্ষ্য এই অংশীদারিত্ব ৫০ শতাংশে উন্নীত করা।

সফরের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক ছিল সিলেট মহানগর পুলিশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভা। নগরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি জোরদার করা, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও পুলিশের কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত এ সভায় মন্ত্রী নগরে অপরাধের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কার্যকর করার কথা জানান। পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীমের উদ্দেশে তিনি বলেন, আইনের আওতায় কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে; দলমত-নির্বিশেষে যে-ই অপরাধী হোক, তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক নিয়ে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, মার্কিন নীতির আওতায় বাংলাদেশের ওপর সাধারণ শুল্কের বাইরে অতিরিক্ত ১০ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। যদিও এই শুল্ক শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, দেশটি যেসব রাষ্ট্রের ওপর সবচেয়ে কম শুল্ক প্রয়োগ করেছে, বাংলাদেশ সেগুলোর একটি। ফলে এটি তুলনামূলকভাবে স্বস্তিদায়ক বলে মনে করেন তিনি।

ভারতীয় ব্যবসায়ীদের সাম্প্রতিক বাংলাদেশ সফরের প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী বলেন, ভারতীয় প্রতিনিধিরা দেশের অবকাঠামো ও ডিজিটাল অবকাঠামো খাতে বড় ধরনের বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছেন। বিনিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত ও সুনির্দিষ্ট করতে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সঙ্গে যৌথভাবে দুটি টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ভারতীয় ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশ ও ভারতের স্থলবন্দরগুলো পুরোপুরি সচল করার বিষয়েও আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। স্থলবন্দরগুলো বন্ধ থাকায় কাঁচামাল পরিবহনের ব্যয় বৃদ্ধি পায় বলে তাঁরা জানান। সীমান্তের স্থলবন্দরগুলো দ্রুত পুরোপুরি সচল করতে সরকার উদ্যোগ নিচ্ছে; এতে কাঁচামাল ও পণ্য পরিবহনের জটিলতা কমবে এবং দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য আরও সম্প্রসারিত হবে।

বাংলাদেশে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধিদলের বিনিয়োগ আগ্রহের কথাও জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিনিয়োগের সহায়ক পরিবেশ তৈরির বিষয়ে মার্কিন পক্ষের কিছু প্রস্তাব ও পরামর্শ রয়েছে, যা সরকার বিবেচনায় নিয়েছে।

বাণিজ্যঘাটতি ২৭ বিলিয়ন ডলারের বেশি—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশের আমদানি, রপ্তানির তুলনায় বেশি। পৃথিবীর অনেক দেশেই আমদানি বেশি ও রপ্তানি কম; তাই বিষয়টি অস্বাভাবিক নয়। অথচ রপ্তানি বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, রপ্তানি বাড়লে আমদানির পরিমাণও বৃদ্ধি পাবে। এ প্রসঙ্গে ভিয়েতনামের উদাহরণ টেনে মন্ত্রী জানান, দেশটির আমদানি-রপ্তানি মিলিয়ে বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৮০০ বিলিয়ন ডলার, যেখানে বাংলাদেশের পরিমাণ প্রায় ৬০০ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশের অর্থনীতির আকারের সঙ্গে বাণিজ্যের পরিমাণ আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া প্রয়োজন।

শিল্প খাতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের টেকসই সমাধান প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, দেশে দৈনিক সাড়ে তিন থেকে চার ঘণ্টা সৌরশক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার সম্ভব। স্টোরেজ সুবিধা থাকলে সন্ধ্যার পিক আওয়ারেও এই বিদ্যুৎ ব্যবহারের সুযোগ থাকবে। সরকার ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে; এটি বাস্তবায়িত হলে শিল্প খাতে লোডশেডিংয়ের সংকট অনেকাংশে কমে আসবে।

দিনের শেষভাগে মন্ত্রী সিলেটের দক্ষিণ সুরমার শাহপরান (রহ.) বাইপাস এলাকায় প্রস্তাবিত বিসিক-৩-এর জমি পরিদর্শন করেন।